শনিবার ● ২৫ এপ্রিল ২০২৬

সাতক্ষীরায় তীব্র গরমে শিশু ডায়রিয়ার প্রকোপ, ৫০ দিনে ভর্তি ১,৭১৮

হোম » খুলনা » সাতক্ষীরায় তীব্র গরমে শিশু ডায়রিয়ার প্রকোপ, ৫০ দিনে ভর্তি ১,৭১৮
শনিবার ● ২৫ এপ্রিল ২০২৬


 

ছবি সংগৃহীত

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

প্রচণ্ড গরমে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা, যা স্বাস্থ্যখাতে চাপ বাড়াচ্ছে।

 

জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগীর ভিড় বেড়েছে। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সদের।

 

শনিবার সরেজমিনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আক্রান্ত শিশুদের ভিড়ে ওয়ার্ডগুলো প্রায় পূর্ণ। অনেক রোগীকে শয্যার অভাবে মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।

 

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শহরের মুনজিতপুর এলাকার গৃহবধূ ময়না খাতুন সাগরকন্যাকে বলেন, তার ১১ মাস বয়সী শিশু আরফান আরিফ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে (শনিবার) সকালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্যালাইন ছাড়া প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।

 

একই দিনে তালা উপজেলার কানাইদিয়া গ্রাম থেকে আসা গৃহবধূ পাপিয়া খাতুন তার ১০ মাস বয়সী ছেলে রাহিল হাসানকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি বলেন, ‘ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পরিবেশ বেশ অস্বাস্থ্যকর। স্যালাইন ছাড়া প্রায় সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।’

 

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি শিশু হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, গত ৫০ দিনে এই তিনটি প্রতিষ্ঠানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৭১৮ জন শিশু। এর মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার, সদর হাসপাতালে ৫৭৭ এবং বেসরকারি শিশু হাসপাতালে ১৪১ জন ভর্তি হয়। এছাড়া প্রতিদিন বহির্বিভাগেও বিপুলসংখ্যক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলো জানিয়েছে।

 

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সামছুর রহমান বলেন, সাধারণত মার্চ-এপ্রিল থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলে শিশুদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এতে ডায়রিয়ার পাশাপাশি জ্বর ও বমিও হতে পারে। তিনি বলেন, ‘এসময় শিশুদের মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন দিতে হবে এবং পচা-বাসি খাবার থেকে দূরে রাখতে হবে।’

 

তিনি আরও জানান, ১ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক হাজারের বেশি শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে।

 

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান বলেন, ‘শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় রোগীদের সেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের বেগ পেতে হচ্ছে। শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৯:৪০ ● ২৭ বার পঠিত