সোমবার ● ২০ এপ্রিল ২০২৬
মির্জাগঞ্জে বিরোধ মেটাতে গিয়ে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে তিনজনকে নির্যাতনের অভিযোগ
হোম » রাজনীতি » মির্জাগঞ্জে বিরোধ মেটাতে গিয়ে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে তিনজনকে নির্যাতনের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে জমির বিরোধ মেটাতে গিয়ে দুই হিন্দু নারীসহ তিনজনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ গাবুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. মজিবর রহমান উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য। নির্যাতনের শিকাররা হলেন সমীর চন্দ্র হাওলাদার, তার স্ত্রী সবিতা রানী (৫০) ও কন্যা ঝিলিক রানী (২২)।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সমীর চন্দ্র হাওলাদারের বসতঘরের সামনে একটি মন্দির সংলগ্ন জমিতে থাকা একটি চাম্বল গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। গাছের মালিকানা দাবি করেন সমীর চন্দ্রের ভাই শংকর চন্দ্র হাওলাদার। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. মজিবর রহমানকে খবর দেন।
পরে মজিবর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে শংকর চন্দ্র হাওলাদারের পক্ষ নিয়ে সমীর চন্দ্র হাওলাদারের ওপর লাঠিপেটা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে স্ত্রী সবিতা রানী ও মেয়ে ঝিলিক রানীকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এতে তারা তিনজনই আহত হন।
আহতদের ওইদিন মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে রবিবার বিকালে তারা বাড়ি ফিরে বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এর আগেও তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা এবং একাধিকবার মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. মজিবর রহমান সাগরকন্যাকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। একটি মহল আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।’ তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি কেবল সমাধানের চেষ্টা করেছেন, তবে তার আগেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।
এ বিষয়ে অপর পক্ষ শংকর চন্দ্র হাওলাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সাহাবুদ্দিন নান্নু বলেন, হিন্দু পরিবারের ওপর এমন ঘটনা নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত, দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুস সালাম বলেন, ভুক্তভোগীরা থানায় এসেছেন এবং তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:০৪:৫৬ ● ৬৬ বার পঠিত
