শুক্রবার ● ১৭ এপ্রিল ২০২৬
১৭ এপ্রিলের শপথভূমি মুজিবনগরে ভাঙচুরের ক্ষত, রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্যে ধস
হোম » লিড নিউজ » ১৭ এপ্রিলের শপথভূমি মুজিবনগরে ভাঙচুরের ক্ষত, রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্যে ধস
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মেহেরপুর
একাত্তরের ১৭ এপ্রিল- মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিশ্বদরবারে আত্মপ্রকাশ করে একটি নতুন রাষ্ট্র। সেই ঐতিহাসিক শপথভূমি ঘিরে গড়ে ওঠা মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স আজ ভাঙচুরের ক্ষত, অবহেলা আর ধীরগতির সংস্কারে নীরব হয়ে আছে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে তুলতে কমপ্লেক্সটিতে স্থাপন করা হয়েছিল সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধের বর্ণনা, মানচিত্র, ম্যুরাল ও শত শত ভাস্কর্য। দর্শনার্থীদের কাছে এটি ছিল এক অনন্য ইতিহাস পাঠের স্থান, যেখানে একাত্তরের প্রতিটি অধ্যায় দৃশ্যমান হয়ে উঠত।
কিন্তু গত ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় কমপ্লেক্সজুড়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট-বড় অসংখ্য ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরভিত্তিক উপস্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে প্রধান ফটকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সরঞ্জাম লুট হয়ে যায়।
ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কার্যক্রম এখনো দৃশ্যমান নয়। ফলে একাত্তরের গৌরবময় ইতিহাস ধারণ করা এই স্থাপনাটি আজ অনেকটাই প্রাণহীন হয়ে পড়েছে।
দর্শনার্থী কমে, থমকে স্থানীয় অর্থনীতি
একসময় শীত মৌসুমে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করতেন মুজিবনগরে। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম সাগরকন্যাকে বলেন, ‘আগে এই সময় দোকানে বসার ফুরসত থাকত না। এখন মানুষ কম আসে। যারা আসে, তারা ভাঙা জায়গাগুলো দেখে হতাশ হয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা গৃহিণী শাহিদা বেগম বলেন, ‘এটা শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র না, আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস। এই অবস্থায় রেখে দেওয়া ঠিক না।’
প্রশাসনিক তৎপরতা, কিন্তু অগ্রগতি ধীর
সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে এবং বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ শুরু হবে। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও বাজেট জটিলতায় কাজের গতি ধীর।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, ‘রাষ্ট্রের এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, কিন্তু সংস্কারে এত দেরি- এটা হতাশাজনক।’
ইতিহাস সংরক্ষণের প্রশ্ন
মুজিবনগর শুধু একটি স্থান নয়- এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক সূচনার প্রতীক। এখানেই বিশ্বের সামনে ঘোষিত হয়েছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের কাঠামো।
তবে বর্তমান বাস্তবতা বলছে, সেই ইতিহাস ধারণকারী স্থাপনাটিই এখন সুরক্ষা ও সংরক্ষণের সংকটে।
বাংলাদেশ সময়: ১:২১:৫০ ● ২৭ বার পঠিত
