বুধবার ● ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কাউখালীতে চরাঞ্চলে প্রথম বাণিজ্যিক তরমুজ চাষে বিপ্লব
হোম » কৃষি » কাউখালীতে চরাঞ্চলে প্রথম বাণিজ্যিক তরমুজ চাষে বিপ্লব

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কাউখালী (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন কৃষকেরা। উপযুক্ত আবহাওয়া ও বালিমিশ্রিত উর্বর মাটিতে উপজেলার চরিপাড়া-সাতুরিয়া ইউনিয়নের সুবিদপুর ও কেশরতা এলাকার প্রায় ৮৬ একর চরভূমিতে এ তরমুজ চাষ করা হয়েছে।
বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ লতা আর তার ফাঁকে ফাঁকে ছোট-বড় তরমুজের উপস্থিতি। বালুমাটির বুক চিরে বেড়ে ওঠা এসব গাছ মাত্র দুই মাসেই ফলে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কৃষকদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এবার ভালো ফলন পাওয়া যাবে।
তবে ভালো ফলন হলেও বাজারে তরমুজের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকের মুখে তেমন হাসি নেই। রোজার পর চাহিদা কমে যাওয়ায় উৎপাদনের তুলনায় দাম কমেছে বলে জানান তারা।
উপজেলার সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী সুবিদপুর ও কেশরতা গ্রামের এসব চর একসময় রবি মৌসুমে অনাবাদি পড়ে থাকত। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এবং এসএসসিপিপি প্রকল্পের সহায়তায় আধুনিক প্রযুক্তি ও পরামর্শের মাধ্যমে এখন এসব জমি লাভজনক চাষাবাদের আওতায় এসেছে।
ভোলার চরফ্যাশন থেকে আসা তরমুজচাষি কামাল হোসেনসহ কয়েকজন মিলে এ বছর প্রায় ৮৬ একর চরভূমিতে তরমুজ চাষ শুরু করেন। এক মৌসুম ধান চাষের পর দীর্ঘদিন জমি পতিত থাকলেও কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সেখানে নতুন সম্ভাবনার ফসল হিসেবে তরমুজ চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠজুড়ে চলছে তরমুজ সংগ্রহ, বাছাই ও বাজারজাতকরণের ব্যস্ততা। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ এবং পরিকল্পিত পরিচর্যার কারণে এবার ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন অনাবাদি জমিতে জৈব সার ও পলি ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারে তরমুজের আকার, স্বাদ ও মিষ্টতা বেড়েছে। উপকূলীয় এ অঞ্চল তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় ভবিষ্যতে এ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা তাদের।
কৃষক কামাল হোসেন বলেন, ‘তরমুজ চাষে খরচ কম, পরিশ্রমও তুলনামূলক কম। একটু যত্ন নিলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়।’ তিনি জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শে তারা উপকৃত হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোমারানী দাস বলেন, কৃষকদের অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও কৃষক এ ফসল চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যে তরমুজ উঠতে শুরু করেছে। আকারভেদে প্রতি তরমুজ পাইকারি বাজারে ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:০৮:৩৭ ● ১১৩ বার পঠিত
