রবিবার ● ২৯ মার্চ ২০২৬

তালতলীতে ব্রিজ ধস: আহত ২, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ১৫ হাজার মানুষ

হোম পেজ » বরগুনা » তালতলীতে ব্রিজ ধস: আহত ২, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ১৫ হাজার মানুষ
রবিবার ● ২৯ মার্চ ২০২৬


 

তালতলীতে ব্রিজ ধস: আহত ২, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ১৫ হাজার মানুষ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী ও কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের সংযোগস্থল গেন্ডামাড়া খালের ওপর নির্মিত ব্রিজ ধসে পড়েছে। এতে মোটরসাইকেলসহ দুই আরোহী আহত হয়েছেন। শনিবার এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে নির্মিত লোহার ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে কয়েক বছরের মধ্যেই এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। শনিবার (২৮ মার্চ) মোটরসাইকেল পারাপারের সময় হঠাৎ ব্রিজটির একটি অংশ ধসে পড়ে এবং দুই আরোহী খালে পড়ে আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

 

ব্রিজটি ধসে পড়ায় ছোটবগী ও কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের অন্তত পাঁচটি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ছোটবগী ও গেন্ডামাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এতিম মঞ্জিল বালিকা দাখিল মাদ্রাসা এবং উম্মুল কুরা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শত শত শিক্ষার্থীর যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। রোগী পরিবহন ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কোনো কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ নেয়নি।

 

এতিম মঞ্জিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সুমাইয়া ও হনুফা ভাষ্য, ‘ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় আমাদের মাদ্রাসায় যাওয়া খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। দ্রুত এখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

 

গেন্ডামাড়া গ্রামের মারুফ হোসেন অপূর্ব সাগরকন্যাকে বলেন, ব্রিজের বেহাল অবস্থা একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশল কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্রিজটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত ও যান চলাচলের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, পুরোনো আয়রন ব্রিজের পরিবর্তে নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, প্রকল্প অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

 

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। আপাতত জনসাধারণের চলাচলের জন্য সেখানে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩৮:৫১ ● ৩২ বার পঠিত