সোমবার ● ২৩ মার্চ ২০২৬

তালতলীতে নববধূর মৃত্যুতে ‘যৌতুক’ বনাম ‘আত্মহত্যা’ বিতর্ক

হোম পেজ » বরগুনা » তালতলীতে নববধূর মৃত্যুতে ‘যৌতুক’ বনাম ‘আত্মহত্যা’ বিতর্ক
সোমবার ● ২৩ মার্চ ২০২৬


 

তালতলীতে নববধূর মৃত্যুতে ‘যৌতুক’ বনাম ‘আত্মহত্যা’ বিতর্ক

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

বরগুনার তালতলী উপজেলায় নববধূ লামিয়া (১৯)র মৃত্যু ঘিরে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তবে স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

 

শনিবার (২২ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বাবার বাড়িতে লামিয়া চাল সংরক্ষণের বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত আনুমানিক ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে।

 

জানা গেছে, তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের প্রবাসী জাহাঙ্গীর গাজীর মেয়ে লামিয়ার সঙ্গে প্রায় ১০ মাস আগে একই উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মোয়াপাড়া গ্রামের বেল্লাল হাওলাদারের ছেলে আরিফ বিল্লাহর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতা ছিল, লামিয়ার বাবা মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে শ্বশুরবাড়িতে তোলা হবে। তবে এর আগেই স্বামীর পরিবার তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায়।

 

লামিয়ার পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুর বেল্লাল হাওলাদার, শাশুড়ি আসিয়া বেগম ও দেবর আতিকুর যৌতুকের দাবিতে লামিয়ার ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। একপর্যায়ে তার স্বামী তাকে ঢাকায় নিয়ে যান এবং সেখানেও নির্যাতন অব্যাহত থাকে। এমনকি সংসারের ন্যূনতম খরচ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও তাকে ঠিকমতো দেওয়া হতো না বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

নিহতের মা হামিদা বেগম বলেন, ‘বিয়ের সময় সামর্থ্য অনুযায়ী স্বর্ণের আংটিসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়েছিল। এরপরও আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। যৌতুকের জন্যই আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুই লাখ টাকা দাবি করে লামিয়াকে না খাইয়ে রাখা হতো। নির্যাতনের বিষয়গুলো সে মোবাইলে রেকর্ড করেছিল। পরে কৌশলে ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়।’

 

অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসী বাবা যৌতুকের টাকা পাঠাতে না পারায় ঈদের দ্বিতীয় দিন স্বামী দ্বিতীয় বিয়ের হুমকি দেন, যা লামিয়াকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।

 

তবে নিহতের স্বামী আরিফ বিল্লাহ দাবি করেন, ‘আমার স্ত্রী আমাকে পছন্দ করতেন না এবং সংসার করতে চাননি। আমি বা আমার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো যৌতুক দাবি করা হয়নি। তিনি বাবার বাড়িতে গিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।’

 

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:০১:০১ ● ৫৪ বার পঠিত