বৃহস্পতিবার ● ১৯ মার্চ ২০২৬
তদন্তে মাঠে নেমেছে পুলিশ বাউফলে বিপুল পরিমাণে সন্দেহজনক পণ্যের বস্তা জব্দ
হোম পেজ » লিড নিউজ » তদন্তে মাঠে নেমেছে পুলিশ বাউফলে বিপুল পরিমাণে সন্দেহজনক পণ্যের বস্তা জব্দ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরে নিষিদ্ধ পণ্যের সন্দেহে বিপুল পরিমাণ বস্তাভর্তি মালামাল জব্দ করেছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকালে আলগী নদী সংলগ্ন বন্দরের ধানহাটা ট্রাকস্ট্যান্ডে একটি কার্গো থেকে এসব বস্তা জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৮ মার্চ) গভীর রাতে পণ্য খালাসের সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে কয়েকটি বস্তা খুলে এক ধরনের বীজ পাওয়া যায়, যা স্থানীয়দের ধারণা অনুযায়ী পপি সিড হতে পারে। এছাড়া কিছু বস্তায় সুপারি পাওয়া গেছে। বাকি বস্তাগুলোতেও অবৈধ পণ্য থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে রাতেই সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উৎসুক জনতার ভিড় বাড়তে থাকে। পরে পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বস্তাগুলো আটকের পর কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মধু সুধন দাস ওরফে মধু মেম্বারের দুই ছেলে উত্তম দাস ও আশিষ দাস ঘটনাস্থলে এসে পণ্যগুলো নিজেদের বলে দাবি করেন। তারা স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত এ নিয়ে দেনদরবার চলে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জব্দকৃত পণ্যের মালিক হতে পারেন মধু সুধন দাসের ছোট মেয়ে জামাই জয়দেব দাস। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মিয়ানমার ও ভারত থেকে অবৈধ পণ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১১ সালে তেঁতুলিয়া নদীতে চন্দন কাঠের একটি চালান জেলেদের হাতে ধরা পড়লেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি রক্ষা পান। এছাড়া ২০২১ সালে কালাইয়া বন্দরের আলগী নদী এলাকায় প্রায় ৩ হাজার বস্তা অবৈধ পণ্যসহ দুটি কার্গো আটক হলেও একইভাবে পার পেয়ে যান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জয়দেব দাসের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তার শ্যালক আশিষ দাস বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই বস্তাগুলো জব্দ করা হয়েছে। কিছু বস্তায় পোস্তদানা ও সুপারি আছে, কোনো অবৈধ মালামাল নেই।
বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৪৪৪ বস্তা ট্রাকে তোলা হয়েছে। মোট বস্তার সংখ্যা ৭৫০ থেকে ৮০০ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জব্দকৃত পণ্যের প্রকৃতি যাচাই করে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহম্মেদ বলেন, কোনো ধরনের লুকোচুরির সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:০২:১১ ● ৫৪ বার পঠিত
