বুধবার ● ১৮ মার্চ ২০২৬
গৌরনদীতে স্কুলছাত্রদের ঝগড়া, সংঘর্ষে ১০ জন আহত
হোম পেজ » বরিশাল » গৌরনদীতে স্কুলছাত্রদের ঝগড়া, সংঘর্ষে ১০ জন আহত
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)
বরিশালের গৌরনদীতে তারাবি’র নামাজের সময় স্কুল ছাত্রদের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের মধ্যে হামলা-পাল্টাহামলা ও সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে উপজেলার পশ্চিম শাওড়া গ্রামে সৌদি প্রবাসী হিরন বেপারীর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় উভয় পক্ষের ৫ জনকে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার পশ্চিম শাওড়া জামে মসজিদে তারাবি’র নামাজ আদায়ের সময় মহাসিন খানের ছেলে ৫ম শ্রেনীর ছাত্র মাহাসিব খান (১০) ও সৌদি প্রবাসী হিরন বেপারীর ছেলে নবম শ্রেনীর ছাত্র আলামিন বেপারী (১৩)কে ঠেলাঠেলি করে দাঁড়াতে গিয়ে একে অপরের গাঁয়ে পা লাগে। এরপর উভয়ই মসজিদ থেকে বের হয়ে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে আলামিন বেপারী ও মাহাসিব খানের মধ্যে বাকবিতন্ডাবাঁধে। একপর্যায়ে আলামিনসহ ২/৩ কিশোর হামলা চালিয়ে মাহাসিবকে মারধর করে।
সৌদি প্রবাসী হিরনের স্ত্রী ৯ মাসের আন্তঃসত্ত্বা আকলিমা বেগম (৩৫) অভিযোগ করে বলেন, মহাসিন খানের নেতৃত্বে ৬/৭ জনে আমাদের বাড়িতে এসে আমার ছেলে আলামিনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আমি ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে মহাসিন ও তার সহযোগীরা আমাকে ও আমার ছেলেকে কিলঘুষি ও লাথি মারে। এ সময় আমাকে ও আমার ছেলেকে উদ্ধার করতে প্রতিবেশী দেবর মাহিন্দ্রা চালক ইউসুফ বেপারী (৩৫), চাচাতো দেবর আজগোর বেপারী (৪০), ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র ফাহাত বেপারী (১০) এগিয়ে এলে তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করে তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় আলামিন, ইউসুফ, ফাহাতকে আগৈলঝাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রতিপক্ষ মহাসিন খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার ছেলেকে মারধরের ঘটনার বিচার দেওয়ার জন্য আমরা আলামিনের বাড়িতে যাই। বাড়ির সামনে পৌছলে প্রবাসী হিরনের স্বজনরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে আমাকে, আমার ছেলে মাহিম খান (১৭), শ্যালক ছলেমান বেপারী (২৫), চাচাতো ভাই রাহাত খান (৪০)কে পিটিয়ে আহত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আমাকে ও আমার বড় ছেলেকে গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থাণীয়রা।
গৌরনদী থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানান, জুলাই যুদ্ধে শহীদ ইলিয়াস খানের সহোদর ভাই মহাসিন খান ও তার ছেলেকে প্রতিপক্ষরা পিটিয়ে আহত করে গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ওই খবর পেয়ে ইউএনও স্যার গৌরনদী হাসপাতালে তাদেরকে দেখতে গিয়ে মোবাইল ফোনে বিষয়টি আমাকে জানায়। কোন পক্ষই এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৫:১৯ ● ১৫৯ বার পঠিত
