মঙ্গলবার ● ১৭ মার্চ ২০২৬

ফেরিবিহীন যোগাযোগের পথে তিন উপজেলা পটুয়াখালীর গলাচিপায় রাবনাবাদ সেতুর কাজ শুরু

হোম পেজ » লিড নিউজ » ফেরিবিহীন যোগাযোগের পথে তিন উপজেলা পটুয়াখালীর গলাচিপায় রাবনাবাদ সেতুর কাজ শুরু
মঙ্গলবার ● ১৭ মার্চ ২০২৬


 

পটুয়াখালীর গলাচিপায় রাবনাবাদ সেতুর কাজ শুরু

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর গলাচিপায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে রাবনাবাদ নদীর ওপর সেতু নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াছিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের (জেড-৮৮০৬) ৭০তম কিলোমিটারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ও পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল হক নুর এমপি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহিদ হোসেন চৌধুরী এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল আক্তার লিমনসহ সংশ্লিষ্টরা।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, রাবনাবাদ সেতু নির্মাণ হলে জনভোগান্তি লাঘব হবে এবং এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। জনগণের চাহিদা বিবেচনায় সরকার প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার অঙ্গীকার রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার দায়বদ্ধ। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশা করছি।

 

প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলে এ সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এসেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে গলাচিপা-দশমিনাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

 

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মিতব্য সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ৮৮২ দশমিক ৮১ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। এতে ১৯টি স্প্যান ও ২০টি পিয়ার থাকবে। ১৮টি স্প্যান পিসি গার্ডার এবং একটি ১০০ মিটার স্টিল বাউ ট্রাস স্প্যান নির্মাণ করা হবে। নৌযান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স রাখা হবে ১৮ দশমিক ৩০ মিটার। সেতুর দুই পাশে প্রায় ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং ১৬০০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ করা হবে।

 

প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১৬৪ কোটি ৪ লাখ ৮২ হাজার ১৫৮ টাকা। ২২ জানুয়ারি ২০২৬ কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং ৩০ ডিসেম্বর ২০২৭ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে যৌথভাবে এম. এম. বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, মেসার্স জন্মভূমি নির্মাতা ও ওহিদুজ্জামান চৌধুরী (এমএনও) জেডি।

 

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি চালু হলে গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালীসহ আশপাশের প্রায় ১০ লাখ মানুষের ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে ফেরিবিহীন সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত হবে। বর্তমানে রাবনাবাদ নদী পারাপারে মানুষকে ফেরি ও ছোট নৌযানের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ সময়: ২১:৫২:১২ ● ৩৭ বার পঠিত