শনিবার ● ১৪ মার্চ ২০২৬

বাউফলে কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম: চাল বিক্রি ও গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ

হোম পেজ » লিড নিউজ » বাউফলে কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম: চাল বিক্রি ও গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ
শনিবার ● ১৪ মার্চ ২০২৬


 

বাউফলে কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম: চাল বিক্রি ও গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় চলতি অর্থবছরের কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দকৃত চাল কালোবাজারে বিক্রি করে অধিকাংশ প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এছাড়া শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু মেশিন ব্যবহার করে কাজ করায় রাস্তার দুই পাশের বহু পরিবেশবান্ধব গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দুই দফায় বাউফল উপজেলায় কাবিখা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৪২০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই বরাদ্দের বিপরীতে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের জন্য ৬১টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয় এবং ইতিমধ্যে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য উত্তোলন করা হয়েছে।

 

সরেজমিনে জানা যায়, সূর্যমণি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীবাড়ির দরজা থেকে দক্ষিণে জাফর জমাদ্দার বাড়ি অভিমুখী রাস্তা মাটি দিয়ে পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে ৬ দশমিক ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি একই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল বাশার। অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দকৃত চাল প্রতিটন প্রায় ৩১ হাজার টাকা দরে কালোবাজারে বিক্রি করে তিনি ভেকু মেশিন দিয়ে সামান্য মাটি ফেলে কাজ সম্পন্ন দেখান। এতে রাস্তার পাশের শতাধিক মূল্যবান গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার মতো কাজ করা হয়েছে। প্রকল্প কমিটির সভাপতি আবুল বাশারের বাড়ি ওই রাস্তার পাশেই হওয়ায় কেউ ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। তবে আবুল বাশার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সঠিক নিয়ম মেনেই প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে।

 

এদিকে সূর্যমণি, বগা, কালিশুরী, কনকদিয়া ও কাছিপাড়া ইউনিয়নের একাধিক প্রকল্পেও সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। কাছিপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বগা-বাহিরচর পাকা সড়ক থেকে পালবাড়ি ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে ৭ দশমিক ৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেখানে ভেকু মেশিন ব্যবহার করে কাজ করায় রাস্তার দুই পাশের বিভিন্ন প্রজাতির পরিবেশবান্ধব গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

এ বিষয়ে প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও কাছিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সুমন বলেন, বর্তমানে শ্রমিক পাওয়া যায় না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই ভেকু মেশিন দিয়ে মাটির কাজ করা হয়েছে। তার ইউনিয়নের প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

এছাড়া চন্দ্রদ্বীপ, মদনপুরা, বাউফল সদর, দাসপাড়া, আদাবাড়িয়া ও কালিশুরী ইউনিয়নের একাধিক প্রকল্প পরিদর্শনেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাইদুল মোরশেদ মুরাদ কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব গাছ রক্ষা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহমেদ বলেন, কাবিখা প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:০০:৪০ ● ৩৫ বার পঠিত