বুধবার ● ২১ জানুয়ারী ২০২৬
জেলার চারটি আসনে ১৯ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ পটুয়াখালী-৩ আসনে ট্রাক–ঘোড়ার দৌড় শুরু
হোম পেজ » লিড নিউজ » জেলার চারটি আসনে ১৯ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ পটুয়াখালী-৩ আসনে ট্রাক–ঘোড়ার দৌড় শুরু

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পটুয়াখালীর চারটি সংসদীয় আসনের ১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রতীক বরাদ্দ প্রদান এবং নির্বাচনী আচরণবিধি বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওহীদুজ্জামান মুন্সিসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রার্থীদের আচরণবিধি সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।
চারটি আসনের মধ্যে শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসন। এ আসনে বিএনপির জোট প্রার্থী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি পেয়েছেন ‘ট্রাক’ প্রতীক। অপরদিকে নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক নির্বাহী সদস্য হাসান মামুন পেয়েছেন ‘ঘোড়া’ প্রতীক।
এ আসনে জামায়াত সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মুহাম্মদ শাহ আলম পেয়েছেন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক পেয়েছেন ‘হাতপাখা’ প্রতীক। স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাক ও ঘোড়ার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ফাঁকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নীরবে এগিয়ে যেতে পারেন।
গত ১৭ জানুয়ারি গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সাধারণ ভোটারদের মতে, এ পরিস্থিতি ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপি জোট প্রার্থী আলতাফ হোসেন চৌধুরী পেয়েছেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীক। জামায়াত সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর ওহাব মিনার পেয়েছেন ‘ঈগল’, ইসলামী আন্দোলনের মো. ফিরোজ আলম ‘হাতপাখা’, জাসদের গৌতম চন্দ্র শীল ‘মোটরগাড়ি (কার)’, জাতীয় পার্টির আ. মান্নান ‘লাঙ্গল’ এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম পেয়েছেন ‘ট্রাক’ প্রতীক।
পটুয়াখালী-২ আসনে বিএনপি জোট প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার পেয়েছেন ‘ধানের শীষ’। জামায়াত সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের মো. শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ‘দাঁড়িপাল্লা’, ইসলামী আন্দোলনের মালেক হোসেন ‘হাতপাখা’, আমার বাংলাদেশ পার্টির মো. রুহুল আমিন ‘ঈগল’ এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ‘ট্রাক’ প্রতীক।
পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপি জোট প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন পেয়েছেন ‘ধানের শীষ’। জামায়াত সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ‘দেয়াল ঘড়ি’, ইসলামী আন্দোলনের মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ‘হাতপাখা’ এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. রবিউল হাসান পেয়েছেন ‘ট্রাক’ প্রতীক।
দশমিনা সদর বড় ডালিম গ্রামের ভোটার শাহ আলম সিকদার বলেন, ‘আমাদের আসনে মূলত ট্রাক ও ঘোড়ার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লাও সুবিধা নিতে পারে।’ গলাচিপা সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামের ভোটার রহমান মিয়া বলেন, ‘বিএনপির উপজেলা কমিটি বিলুপ্তির কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এই আসনে বাড়তি প্রশাসনিক নজরদারি ও নিরাপত্তা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রচারণাকালে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যের পাশাপাশি ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৭:৩৯ ● ৯৬ বার পঠিত
