মঙ্গলবার ● ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ধানের শীষের ভোট না চাওয়ায় চরফ্যাশনে নারীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

হোম » ভোলা » ধানের শীষের ভোট না চাওয়ায় চরফ্যাশনে নারীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে
মঙ্গলবার ● ২০ জানুয়ারী ২০২৬


 

ধানের শীষের ভোট না চাওয়ায়  চরফ্যাশনে নারীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)

চরফ্যাশনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে অস্বীকৃতি জানানোয় হাজেরা বেগম নামের এক নারীকে মারধর করে মাথা ফাটানোর অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ আইচা চর মানিকা ইউনিয়ন যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ সময় অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন হাজেরা বেগমের ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে লিমাকেও বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে চর মানিকা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে হাজেরা বেগমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন (৩৭) শাহাদাৎ হাওলাদারের ছেলে।

চরফ্যাশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাজেরা বেগম জানান, গত রবিবার শাহাবুদ্দিন তাকে ধানের শীষ মার্কার পক্ষে ভোটারদের কাছে যেতে বলেন। তিনি এতে অস্বীকৃতি জানান। সোমবার সকালে দাঁড়ি পাল্লার পক্ষে কাজ করতে বাড়ি থেকে বের হলে শাহাবুদ্দিন তাকে বাধা দেন এবং হুমকি দেন। তিনি তা মানতে অস্বীকৃতি জানালে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারধর শুরু করেন।

তিনি আরও জানান, হামলার সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে লিমাকেও শাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী লাইজু বেগম বেধড়ক মারধর করেন এবং লাথি মারেন। এ সময় শাহাবুদ্দিন তার কান ছিঁড়ে অলংকার ছিনিয়ে নেন এবং কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। চিকিৎসক তার মাথায় ৬টি এবং ছেঁড়া কানে ২টি সেলাই দিয়েছেন বলে জানান হাজেরা বেগম।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন নারী-পুরুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন এলাকায় দখল ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছেন। অত্যন্ত দুর্ধর্ষ ও প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পান না। তিনি এলাকায় প্রশাসন তার নিয়ন্ত্রণে আছে বলেও প্রচার করেন। তার ভাই হেলাল যুবদলের প্রভাব দেখিয়ে এলাকায় দখল বাণিজ্যে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইনচার্জ আহসান কবির জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে আহত হাজেরা বেগমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১০:৫৫:০১ ● ১৫৩ বার পঠিত