সোমবার ● ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

১০৯টি চুলায় একযোগে পিঠা ভাজা পিরোজপুরের নাজিরপুরে শতবর্ষী চিতই পিঠা উৎসব

হোম পেজ » পিরোজপুর » ১০৯টি চুলায় একযোগে পিঠা ভাজা পিরোজপুরের নাজিরপুরে শতবর্ষী চিতই পিঠা উৎসব
সোমবার ● ১৯ জানুয়ারী ২০২৬


 

১০৯টি চুলায় একযোগে পিঠা ভাজা: পিরোজপুরের নাজিরপুরে শতবর্ষী চিতই পিঠা উৎসব

আল-আমিন হোসাইন, নাজিরপুর (পিরোজপুর)

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুমারখালী সার্বজনীন কালী মন্দির কমিটির উদ্যোগে স্থানীয় দেবলাল চক্রবর্তীর বাড়িতে প্রতি বছরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ও শতবর্ষী চিতই পিঠা উৎসব।

 

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এ উৎসব চলে। মাঘের অমাবস্যা তিথিতে আয়োজিত এই বাৎসরিক উৎসবে মন্দিরের সামনে বিশাল বটগাছের নিচে নতুন করে তৈরি করা হয় ১০৮টি মাটির চুলা। পাশাপাশি বটগাছের মধ্যভাগে বাঁশের মাচা তৈরি করে সেখানে আরও একটি চুলা স্থাপন করা হয়। ফলে মোট ১০৯টি চুলায় একযোগে চিতই পিঠা ভাজা হয়, যা উৎসবটির বিশেষ আকর্ষণ।

 

চিতই পিঠা উৎসব সন্ধ্যায় শুরু হয়ে গভীর রাতে শেষ হয়। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে পিরোজপুর জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য নারী-পুরুষ, ভক্ত ও দর্শনার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। উৎসবটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে হলেও অন্যান্য ধর্মের মানুষও উৎসব উপভোগ করতে আসেন।

 

মন্দির কমিটির সভাপতি অমৃত লাল দাস জানান, প্রায় শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এই চিতই পিঠা উৎসব হয়ে আসছে। প্রতি বছর মাঘের অমাবস্যা তিথিতে কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা এখানে এসে তাদের মনোবাসনা পূরণের জন্য মানত করেন। বিশেষ করে সন্তান লাভের আশায় অনেক নারী মানত করেন এবং মনোবাসনা পূর্ণ হলে এই উৎসবে অংশ নেন। তিনি বলেন, লোকমুখে শোনা যায়- এক সময় এক নারী সন্তান লাভের আশায় এখানে মানত করেন। পরে সন্তান লাভের পর তিনি কালী মায়ের উদ্দেশ্যে চিতই পিঠা ভাজেন। সেখান থেকেই এই উৎসবের সূচনা এবং এর নামকরণ হয় শতবর্ষী চিতই পিঠা উৎসব।

 

মন্দিরের দায়িত্বে থাকা পুরোহিত দেবলাল চক্রবর্তী জানান, প্রায় শত বছরেরও বেশি আগে তার পূর্বপুরুষ হরষিত আনন্দ চক্রবর্তী প্রথম এই উৎসবের আয়োজন করেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো ভক্ত এই উৎসবে যোগ দেন।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, কালী মন্দির সংলগ্ন বটগাছের সামনের মাঠে সারিবদ্ধভাবে ১০৮টি নতুন মাটির চুলা বসানো হয়েছে। প্রতিটি চুলায় সাজানো ছিল চিতই পিঠা তৈরির মাটির সাজ। সন্ধ্যার পর পুরোহিত দেবলাল চক্রবর্তী প্রতিটি চুলায় ফুল অর্পণ করে ও আগুন জ্বালিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সূচনা করেন। এ সময় ভক্ত নারীরা উলুধ্বনির মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।

 

পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিভিন্ন বয়সের নারীরা ১০৮টি চুলায় চিতই পিঠা ভাজায় অংশ নেন। অন্যদিকে উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্যরা চালের গুঁড়ার গোলাসহ পিঠা তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করেন। এছাড়া কালী মন্দিরের সামনে অবস্থিত বৃহৎ বটগাছের ওপর বসে একজন ভক্তকে আলাদা একটি চুলায় চিতই পিঠা ভাজতে দেখা যায়।

 

উৎসবস্থলে ঘুরে দেখা যায়, বহু দম্পতি তাদের ছোট শিশু সন্তানসহ এই উৎসবে অংশ নিয়েছেন, যা দীর্ঘদিনের লোকাচার ও বিশ্বাসের ধারাবাহিকতাকেই তুলে ধরে।

বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৯:০৯ ● ৮৯ বার পঠিত