শনিবার ● ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
পটুয়াখালী-৩ আসন কেন্দ্রীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি
হোম পেজ » পটুয়াখালী » পটুয়াখালী-৩ আসন কেন্দ্রীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত কার্যত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো। কেন্দ্র থেকে জোট মনোনীত প্রার্থী নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তৃণমূল বিএনপি সেই নির্দেশ মানতে নারাজ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি’র বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ডাকসু’র সাবেক ভিপি ও গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেন। তবে বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষেই মাঠে থাকবেন।
স্থানীয় বিএনপি জোট প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় না হওয়ায় গত ৭ জানুয়ারি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেন নুরুল হক নুর—এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, এ আসনে বিএনপি’র শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন। তবে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে বিএনপি জোট শরিক দল গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ২৯ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন হাসান মামুন। এর পরদিন ৩০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়।
পরবর্তীতে একাধিক দফা নির্বাচনী মাঠ থেকে তাকে সরানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি অনড় থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ১১ জানুয়ারি গলাচিপা ও ১২ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে পৃথক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাগুলোতে বিএনপি’র বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, পটুয়াখালী জেলা বিএনপি’র সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান টোটনসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাইকে জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গলাচিপা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আ. সত্তার হাওলাদার বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সম্মতিতেই হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। যত চাপই আসুক, আমরা তার সঙ্গেই নির্বাচনী মাঠে থাকবো।
দশমিনা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শানু সিকদার বলেন, দশমিনা ও গলাচিপার বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে হাসান মামুনের পক্ষে রয়েছে। সব বাধা উপেক্ষা করে তাকেই বিজয়ী করা হবে।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, গত ৩৭ বছর ধরে দশমিনা-গলাচিপার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছি। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, ২৭ ডিসেম্বর বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেছি এবং ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিল করেছি। সুতরাং আমাকে বহিষ্কারের দাবি রাজনৈতিক প্রচারণা ছাড়া কিছু নয়।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না হলে এ ধরনের বিভাজন তৈরি হয়, যা দলীয় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দেয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৮:১৭ ● ২৮ বার পঠিত
