মঙ্গলবার ● ১৪ অক্টোবর ২০২৫

পায়রার ভাঙনে ছোট হচ্ছে মির্জাগঞ্জের মানচিত্র

হোম পেজ » পটুয়াখালী » পায়রার ভাঙনে ছোট হচ্ছে মির্জাগঞ্জের মানচিত্র
মঙ্গলবার ● ১৪ অক্টোবর ২০২৫


পায়রার ভাঙ্গনে ছোট হচ্ছে মির্জাগঞ্জের মানচিত্র

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার পিপড়াখালী গ্রামে পায়রা নদীর ভাঙনে দিন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে উপজেলার মানচিত্র। রামপুর, ভিকাখালী, পিপড়াখালী, হাজিখালী ও কাকড়াবুনিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পায়রা নদীর ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে চলেছে।

গত কয়েকদিনে পিপড়াখালী গ্রামে অন্তত সাত-আটটি বাড়ি, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেকে ঘরের মালামাল সরিয়ে নিতেও পারছেন না। এর আগে রামপুর এলাকায় এক নারী ও পিপড়াখালী গ্রামে এক শিশুর মৃত্যু হয় নদীভাঙনে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পায়রা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে প্রতি বছর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এতে পুরো গ্রামসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে।

গত শনিবার (১১ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর প্রবল স্রোতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বহু ঘরবাড়ি ও গাছপালা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। গৃহহীন পরিবারগুলো পাউবোর বেড়িবাঁধের পাশে ঝুপড়ি তুলে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ শহরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মো. মকবুল সিকদার বলেন, জীবনে ছয়বার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখেছি। তিনবার বাড়ি পরিবর্তন করেছি। আমার বাবা-মা ও দাদির কবরও নদীতে তলিয়ে গেছে। এখন কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করাও সম্ভব নয়।

আরেক বাসিন্দা মো. শাহজাহান হাওলাদার বলেন, ভাঙনে দুইবার বসতবাড়ি হারিয়েছি। এখন আবার আতঙ্কে আছি। শেষ স্মৃতিচিহ্ন ছিল দুইটি আকাশমনি গাছ, আজ সেগুলোও কেটে নিচ্ছি। একটি মসজিদ আছে নদী থেকে মাত্র ২০ ফুট দূরে- যেকোনো সময় সেটিও বিলীন হবে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ না করে কেবল বালুর বস্তা ফেললে ভাঙন রোধ সম্ভব নয়। টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হলে পিপড়াখালী গ্রামটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

পায়রা নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ দিয়ে কাজ করলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না। স্থানীয়দের দাবি, এখানে শক্ত কংক্রিট ব্লকের বাঁধ প্রয়োজন। বর্তমানে অন্তত পাঁচশতাধিক পরিবার গৃহহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

পিপড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু সুজীত মজুমদার বলেন, ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি একাধিকবার সরাতে হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, পায়রা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, মির্জাগঞ্জের প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পিপড়াখালী এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। বিকল্প বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। জরিপ শেষ হলে টেকসই বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হবে।

ইউজি/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪৭:২০ ● ১৮৮ বার পঠিত