শুক্রবার ● ৬ নভেম্বর ২০২৬
ইরান যুদ্ধকে নির্বাচনে হারের কারণ বললেন ভ্যান্স, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্বের ইঙ্গিত
হোম » বিশ্ব » ইরান যুদ্ধকে নির্বাচনে হারের কারণ বললেন ভ্যান্স, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্বের ইঙ্গিত
সাগরকন্যা ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের জন্য সরাসরি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া প্রায় ৬০০ শব্দের এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, যুদ্ধের কারণেই ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া অনেক ভোটার এবার রিপাবলিকানদের ছেড়ে গেছেন। তাঁর এ বক্তব্যকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতার আগে ট্রাম্পের কাছ থেকে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
ভ্যান্স লিখেছেন, ‘আমাদের হারের কারণ যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেই গত রাতে তা বলেছেন।’
মঙ্গলবার গভীর রাতে ও বুধবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরান যুদ্ধের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার পেছনে যুদ্ধের ভূমিকা ছিল বলে তিনিও স্বীকার করেছেন।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভ্যান্সের অবস্থান ওয়াশিংটনে আগে থেকেই আলোচিত। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানে হামলা শুরুর পর থেকে প্রকাশ্যে তিনি যুদ্ধের সমর্থন জানিয়েছেন। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠকে এ যুদ্ধ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে খবর রয়েছে।
এত দিন তাঁর এ মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্তু নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ভুল হিসেবে তুলে ধরেন ভ্যান্স।
এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি লেখেন, কেউ যদি মনে করেন, যুদ্ধের কারণে আগামী ছয় বছর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মূল্য দেওয়া সার্থক, তাহলে তাঁর সেই যুক্তি তুলে ধরা উচিত। এ বিষয়ে একমত হওয়া বা দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভ্যান্সের বক্তব্যের পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের কাছ থেকে নিঃশর্ত আনুগত্য প্রত্যাশা করেন ট্রাম্প। তবে এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের জন্য যুদ্ধকে দায়ী করার বিষয়ে ভ্যান্সের সঙ্গে একমত হয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্টের মনোভাব তাঁর জানা আছে। ভ্যান্সের বক্তব্যকে গ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটি কখনোই ওই অস্ত্র পাবে না। যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় থেকেই ভ্যান্সের অবস্থান সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন বলেও জানান ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এ প্রতিক্রিয়াকে এমন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে নামলে ভ্যান্সকে নিজের অবস্থান থেকে কিছুটা স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ দিতে পারেন তিনি।
যুদ্ধের সমালোচনার পাশাপাশি ভোটারদের সমর্থন ফিরিয়ে আনতে চার দফা রাজনৈতিক কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেছেন ভ্যান্স। এগুলো হলো, ইরান যুদ্ধের অবসান, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন।
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল বাইম্যানের মতে, ভ্যান্সের বিবৃতিতে ট্রাম্পের কাছ থেকে নিজেকে আলাদা করার চেষ্টা স্পষ্ট। তবে প্রেসিডেন্ট হতে চাইলে ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিবৃতিতে ভ্যান্স সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও নাম প্রকাশ না করা জরিপকারীদের তথ্য ব্যবহার করেছেন তিনি।
রিপাবলিকান কৌশলবিদ অ্যাশলি ডেভিস বিবিসিকে বলেন, ভ্যান্স মূলত জনমত যাচাই করে দেখছেন, সামনে কতটা এগিয়ে যেতে পারবেন।
পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনো দুই বছর দূরে। ২০২৮ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ভ্যান্সের নাম আলোচনায় থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতার ঘোষণা দেননি তিনি। তাঁর সহযোগীদের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে এখনো ভাবছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের সঙ্গে ভ্যান্সের মতপার্থক্য কতটা গভীর, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অনলাইনে প্রকাশের আগে ভ্যান্স তাঁর বিবৃতিটি ট্রাম্পকে দেখিয়েছিলেন।
এদিকে ২০২৮ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কাকে সমর্থন দেবেন, সে বিষয়ে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন ট্রাম্প। বিভিন্ন সময়ে ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রশংসা করলেও কাউকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু জানাননি তিনি।
নিজের রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা ট্রাম্প উপভোগ করেন বলে মনে করা হয়। এমনকি অতীতে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনার কথাও তুলেছেন তিনি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর ভ্যান্সের এ বক্তব্য শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বড় কোনো পরিবর্তন ঘটাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বক্তব্যটি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং ট্রাম্প-পরবর্তী রিপাবলিকান পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ের প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১০:০৭:৫৬ ● ১১ বার পঠিত
