বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬
ভোটকেন্দ্র বহালের আশ্বাসে ৩ লাখ টাকা ঘুস, ফেরত চেয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেতা
হোম » পটুয়াখালী » ভোটকেন্দ্র বহালের আশ্বাসে ৩ লাখ টাকা ঘুস, ফেরত চেয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেতা
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর দশমিনায় ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার আশ্বাস দিয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার তিন লাখ টাকা ঘুস নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের এক নেতা। বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে ওই টাকা ফেরত চান তিনি। এ সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে অভিযুক্ত নির্বাচন কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় একাধিক মহল তদবির করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের ৫৫ নম্বর দক্ষিণ খারিজা বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র। ওই কেন্দ্রটি সরিয়ে একই ওয়ার্ডের খারিজা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরের আবেদন করেন এমএ সজীব আহমেদ নামে এক ব্যক্তি।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ও একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হারুন ব্যাপারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সামনে টাকা দেওয়ার ঘটনা তুলে ধরছেন। হারুনের দাবি, ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের আবেদনের পর তিনি নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে আগের স্থানে কেন্দ্র বহাল রাখার অনুরোধ জানান। তখন কর্মকর্তা তাঁকে আশ্বাস দেন এবং একদিন ফোন করে এ জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করেন।
ভিডিওতে হারুন ব্যাপারী আরও দাবি করেন, কালাম পঞ্চায়েত নামে গণঅধিকার পরিষদের আরেক নেতার মাধ্যমে নির্বাচন কর্মকর্তাকে কিছু টাকা দেন। বাকি টাকা নিজেই কার্যালয়ে গিয়ে দিয়ে আসেন। পরে ৮ অক্টোবরের খসড়া ও ২৭ অক্টোবরের চূড়ান্ত তালিকায় আগের স্থানেই ভোটকেন্দ্র বহাল রাখা হয়। তবে এমএ সজীব আহমেদ নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে ২ নভেম্বর আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে তাঁর পছন্দের স্থানে ভোটকেন্দ্র পুনঃস্থাপন করা হয়।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হারুন ব্যাপারী দলীয় নেতাদের নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে টাকা ফেরত চান। ভিডিওতে এ সময় নির্বাচন কর্মকর্তাকে নীরব থাকতে দেখা যায়। একই ভিডিওতে কালাম পঞ্চায়েতকে নির্বাচন কর্মকর্তার সামনে বলতে শোনা যায়, তিনি নিজের হাতেই যে টাকা ঘুস দিয়েছিলেন, তা আগেই ফেরত নিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার বলেন, ভোটকেন্দ্র বহাল রাখা বা না রাখার সিদ্ধান্ত তাঁর নয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। অভিযোগকারীদের দাবি অসত্য। তিনি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
এদিকে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে দশমিনা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যান পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান মুন্সী।
এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে। এ বিষয়ে কমিশনই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
বাংলাদেশ সময়: ২১:২১:১৬ ● ১৪ বার পঠিত
