বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬

৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগী ১১৫, মেঝে-বারান্দায় চলছে চিকিৎসা

হোম » পিরোজপুর » ৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগী ১১৫, মেঝে-বারান্দায় চলছে চিকিৎসা
বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬


৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগী ১১৫, মেঝে-বারান্দায় চলছে চিকিৎসাসাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যার তুলনায় রোগী দ্বিগুণেরও বেশি। ৫০ শয্যার হাসপাতালে বৃহস্পতিবার ভর্তি ছিলেন ১১৫ জন। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ডেঙ্গু, হাম, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত শয্যার বাইরে ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দা ও বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় বিছানা পেতে অবস্থান করছেন রোগীরা। কোথাও কোথাও রোগীদের জন্য জায়গা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে চিকিৎসা নিতে এসে বাড়তি দুর্ভোগে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছিলেন ১১৫ জন। একই দিনে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৬২ জন। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, প্রতিদিন গড়ে ১১০ থেকে ১৫০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অথচ হাসপাতালটির অনুমোদিত শয্যাসংখ্যা ৫০টি।

 

রোগীর চাপের পাশাপাশি শয্যা সংকটের বড় কারণ হাসপাতালের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। ৩১ শয্যাবিশিষ্ট পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে বর্তমানে মাত্র ১৯ শয্যার অবকাঠামো ব্যবহার করেই ৫০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে রোগীদের স্থান সংকুলান ও চিকিৎসাসেবা পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও জেলা থেকেও রোগীরা এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তুলনামূলক ভালো চিকিৎসাসেবার প্রত্যাশায় আশপাশের এলাকার মানুষ হাসপাতালটির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় রোগীর চাপও বাড়ছে।

 

অন্যদিকে সীমিত শয্যা ও অবকাঠামো নিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চিকিৎসা দিতে হচ্ছে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের। ফলে তাঁদের ওপর বাড়তি কর্মচাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে শয্যা না পেয়ে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সীমিত শয্যা ও অবকাঠামো নিয়ে এত বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভেঙে ফেলার পর শয্যা সংকট আরও প্রকট হয়েছে। বর্তমানে মাত্র ১৯ শয্যার অবকাঠামো ব্যবহার করে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এরপরও আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। রোগীদের যেন কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হতে না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামাল দিতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা জরুরি।

 

সচেতন মহলের মতে, রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ ও জনবল সংকট নিরসন জরুরি। অন্যথায় হাসপাতালটির ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০:২৭:৪১ ● ১৫ বার পঠিত