সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
পটুয়াখালীতে আ.লীগ-ছাত্রলীগের পদ বাণিজ্যের অভিযোগ, ৫০ হাজারে পদ!
হোম » রাজনীতি » পটুয়াখালীতে আ.লীগ-ছাত্রলীগের পদ বাণিজ্যের অভিযোগ, ৫০ হাজারে পদ!
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন এবং পদ-পদবি বণ্টন নিয়ে পটুয়াখালীতে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে আত্মগোপনে থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে। নিষিদ্ধ জেলা ছাত্রলীগের ৮১৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং মির্জাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের ৮১৬ সদস্যের কমিটিতে স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের দাবি, কমিটিতে পদ পেতে পাঁচ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। কমিটিতে বিবাহিত ব্যক্তি, প্রবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।
তবে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়া ব্যক্তিদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না বলেও স্বীকার করেন। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে নাম সংগ্রহ করে কমিটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ মির্জাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সভাপতি গাজী আতাহার উদ্দিন আহমেদের পরিবর্তে সহসভাপতি রুস্তম আলী মোল্লাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের ভার্চুয়াল বর্ধিত সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি বলে কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন। তবে জেলা সাধারণ সম্পাদক ভিপি আবদুল মান্নানের দাবি, সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ১৯ অক্টোবর দায়িত্ব পরিবর্তনের চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর বিতর্ক আরও বাড়ে। গাজী আতাহার উদ্দিন ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, ১৯ অক্টোবর আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে তিনি দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি জানতে পারেন। সিদ্ধান্তটিকে অগণতান্ত্রিক ও নিয়মবহির্ভূত দাবি করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সদস্যের অভিযোগ, রুস্তম আলী মোল্লাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করার পেছনে চার লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, প্রায় আড়াই বছর ধরে গাজী আতাহার উদ্দিন দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তাঁর অসুস্থতা এবং চার সহসভাপতির মৃত্যুর কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে।
আবদুল মান্নান আরও বলেন, গাজী আতাহার উদ্দিন সুস্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সভাপতির দায়িত্ব ফিরে পাবেন।
অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতান আহমেদ মৃধার দাবি, জেলা সভাপতি কাজী আলমগীর দায়িত্ব পরিবর্তনসংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখতে সাধারণ সম্পাদককে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে আত্মগোপনে থাকায় জেলা সভাপতি কাজী আলমগীরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা না করে দীর্ঘদিনের সভাপতির দায়িত্ব পরিবর্তন করা ঠিক হয়নি। তিনি সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
এদিকে, কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, গাজী আতাহার উদ্দিন এলাকায় অবস্থান করলেও রুস্তম আলী মোল্লা ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সব মিলিয়ে, জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন এবং মির্জাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীতে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২১:৩৭:৪৭ ● ২৫ বার পঠিত
