স্বামীকে হারানোর ২০ বছর পর একমাত্র ছেলেও পঙ্গু, দিশেহারা রানু বেগম

হোম » ভোলা » স্বামীকে হারানোর ২০ বছর পর একমাত্র ছেলেও পঙ্গু, দিশেহারা রানু বেগম
বৃহস্পতিবার ● ২২ অক্টোবর ২০২৬


 

স্বামীকে হারানোর ২০ বছর পর একমাত্র ছেলেও পঙ্গু, দিশেহারা রানু বেগম

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মনপুরা (ভোলা)

 

২০ বছর আগে মেঘনায় ট্রলার দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারান রানু বেগম। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শুরু হয় তাঁর জীবনসংগ্রাম। মেয়েদের বড় করেছেন, এক মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন। সংসারের হাল ধরতে লেখাপড়া ছেড়ে কাজে নামেন একমাত্র ছেলে হাসিব শান্ত। কিন্তু সেই ছেলেও সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এখন বাড়িতে পড়ে আছেন। অর্থের অভাবে হচ্ছে না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। স্বামী হারানোর পর এবার একমাত্র ছেলের চিকিৎসা ও সংসার চালানোর কঠিন লড়াইয়ে দিশেহারা রানু বেগম।

 

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার চরফৈজুদ্দিন গ্রামের বাসিন্দা রানু বেগম। তাঁর ছেলে হাসিব শান্ত ময়মনসিংহের ত্রিশালে আজাদ বেকারির বিপণনকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৯ মে বেকারির পণ্য নিয়ে বিপণনের কাজে বের হলে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর দুই পা গুরুতর আহত হয়।

 

দুর্ঘটনার পর প্রথমে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকেরা তাঁর পা কেটে ফেলতে হবে বলে জানান। এরপর বন্ধু, স্বজন ও আত্মীয়দের সহায়তায় ঢাকার ম্যাক্স হাসপাতাল ও বিডিএম হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। কিন্তু অর্থসংকটে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পেরে এখন গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন হাসিব।

 

রানু বেগম জানান, স্বামী মো. শাহজাহান ট্রলার দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর তিন সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালিয়েছেন। সন্তানদের পড়াশোনা করিয়েছেন। কখনো শাকসবজি ও নারকেল বিক্রি করেছেন, আবার কখনো বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ করে সংসারের খরচ জুগিয়েছেন। এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। অন্য মেয়ে রাত্রি মনপুরা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

 

রানু বেগম বলেন, ‘একমাত্র ছেলে বড় হয়ে আমার কষ্ট বুঝে সংসারের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু সুখ আর কপালে জুটল না। সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে এখন বাড়িতে পড়ে আছে। আবার ছেলের চিকিৎসার খরচ আর সংসারের বোঝা আমাকে বইতে হবে।’

 

জানা গেছে, সংসারের হাল ধরতে পড়াশোনা শেষ করার আগেই ত্রিশালে কাজ শুরু করেন হাসিব শান্ত। চাকরির পাশাপাশি অসহায় রোগীদের রক্তের ব্যবস্থা করে দিতেন তিনি। মনপুরা থেকে কেউ অসুস্থ হয়ে ঢাকায় গেলে তাঁদের জন্যও রক্তদাতা খুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করতেন।

 

হাসিব শান্ত বলেন, ‘সংসারের হাল ধরতে গিয়ে পড়াশোনা শেষ করতে পারিনি। চাকরি করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে এখন বিনা চিকিৎসায় মায়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। চাকরির পাশাপাশি অসহায় রোগীদের রক্তের ব্যবস্থা করে দিতাম।’

 

নিজের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন হাসিব। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে আবার সংসারের দায়িত্ব পালন এবং অসহায় রোগীদের রক্তের ব্যবস্থা করতে চান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪৮:২১ ● ২৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ