সাগরকন্যা ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
ইরানের ক্ষমতাসীন সরকার কট্টরপন্থি শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা বা স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘ইরানি শাসকদের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন। দুর্ভাগ্যবশত, তারা দক্ষ আলোচক নয় এবং কট্টরপন্থি শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা ধর্মতত্ত্ব দ্বারা পরিচালিত হয়। তাদের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন।’
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলছে। সংঘাতের প্রথম দিনেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে ইরান। এর জবাবে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দফায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও সংঘাত নিরসনে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত জুনে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
যুদ্ধের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার কঠোর সমালোচনা করে আসছেন রুবিও। এসব হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নজিরবিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশকে দেখছি, যারা প্রকাশ্যে ঘোষণা করছে যে তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমরা এমন কিছু আর দেখিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা এমন কৌশল ব্যবহার করছে, যা নাৎসি বাহিনীর সাবমেরিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। এর নিন্দা জানাতে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
এদিকে মধ্যস্থতার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি তেহরান সফর করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সেখানে তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতা বাঘের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে ঘালিবাফ জানান, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ সাতটি শর্ত দিয়েছে তেহরান। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে না ইরান।