
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে বরগুনার আমতলীতে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। পৃথকভাবে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে তাঁরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা, মণ্ডপের উন্নয়ন ও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাঁদের এমন তৎপরতায় পূজামণ্ডপগুলোতে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দলও প্রকাশ্যে আসছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৮ অক্টোবর থেকে আমতলী উপজেলার ১৬টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। পূজাকে ঘিরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। এর পাশাপাশি বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করছেন। তাঁদের মধ্যে আমতলী পৌরসভার চারটি মণ্ডপকে বেশি গুরুত্ব দিতে দেখা যাচ্ছে।
বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র ও চেয়ারম্যান প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পৃথকভাবে মণ্ডপে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁরা বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধি প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরারও চেষ্টা করছেন তাঁরা। মণ্ডপ কর্তৃপক্ষও তাঁদের আতিথেয়তা করছেন।
আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির, সদস্যসচিব তুহিন মৃধা ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. কবির ফকির বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। অন্যদিকে ইউনিয়ন পর্যায়ের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও পূজামণ্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
গুলিশাখালী ইউনিয়নে অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, তোফাজ্জেল হোসেন ও ফারুক আকন; আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নে মো. মোশাররফ হোসেন হিরু, মো. রফিকুল ইসলাম রিপন, ফারুক মৃধা ও নজরুল ইসলাম; কুকুয়া ইউনিয়নে অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. কায়েসুর রহমান ফকু ও অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলম মণ্ডপ পরিদর্শন করছেন।
হলদিয়া ইউনিয়নে মো. মকবুল আহম্মেদ খাঁন, মো. লিমন হাওলাদার, মো. মাহবুব মৃধা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক; চাওড়া ইউনিয়নে অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া ও মো. মেহেদী জামান রাকিব এবং আমতলী সদর ইউনিয়নে মো. ফরহাদ ফকির, জালাল উদ্দিন মৃধা, মো. আমিনুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলাম সোহাগ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন।
আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মোশাররফ হোসেন হিরু বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্যই মণ্ডপ পরিদর্শন করেছি।’
হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মকবুল আহমেদ খাঁন বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণভাবেই পূজা উদযাপন করছেন।’
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. কবির ফকির বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে ভালোভাবে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্যই মণ্ডপ ঘুরে দেখেছি। দেবী দুর্গার আশীর্বাদে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন দুধে-ভাতে থাকে, সেটাই কামনা করি।’
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মো. তুহিন মৃধা বলেন, ‘দায়িত্ববোধ থেকেই মণ্ডপ পরিদর্শন করছি। ভালোভাবেই পূজা উদযাপিত হচ্ছে।’ তিনি সব সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আমার ভাই। দলীয় সিদ্ধান্তেই মণ্ডপ পরিদর্শন করছি, যাতে তাঁরা ভালোভাবে পূজা উদযাপন করতে পারেন।’ তিনি আরও বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত পেলে আগামী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করবেন।
আমতলী উপজেলা শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট হরিহর চন্দ্র দাস বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হচ্ছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি।’
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, উপজেলার মণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। উৎসব শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ সতর্ক থাকবে।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে দেখা যায়নি। তবে এ নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে কোনো ক্ষোভ নেই বলেও জানা গেছে।