উন্নয়ন বাধাগ্রস্তের অভিযোগ কালাইয়া বন্দরে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির দাবিতে মানববন্ধন

হোম » পটুয়াখালী » উন্নয়ন বাধাগ্রস্তের অভিযোগ কালাইয়া বন্দরে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির দাবিতে মানববন্ধন
মঙ্গলবার ● ২০ অক্টোবর ২০২৬


 

ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির দাবিতে ব্যবসায়ী-বাসিন্দাদের মানববন্ধন

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালাইয়া বন্দরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সালাম খান ওরফে ব্যারিস্টার সালামের সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কালাইয়া বন্দরের বড় পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

 

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সমাজসেবক আবুল হাসান মুনসুর, বিএনপি নেতা হাজী আব্দুল খালেক সরদার, যুবদল নেতা রাজন মনসুরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

 

বক্তারা বলেন, সম্প্রতি কালাইয়া বন্দরের বড় পুকুরের পশ্চিম পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পূবালী ব্যাংকের কালাইয়া শাখার উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ২২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। তবে পুকুরের পাড় নিজের জায়গা দাবি করে ব্যারিস্টার সালাম খান কাজে বাধা দেন। এতে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

 

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে অর্থের মাধ্যমে প্রভাবিত করে জালিয়াতির মাধ্যমে বন্দরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ১৫০ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করেছেন সালাম খান। তাঁদের দাবি, বন্দরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি কীভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন হয়, তা খতিয়ে দেখতে হবে। সরকারি জমি উদ্ধারের পাশাপাশি বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

 

কালাইয়া মার্চেন্টপট্টি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, কালাইয়া বন্দর দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এ বন্দরের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা জড়িত। জমি ও মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সালাম খান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আমাকে এ জায়গা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতের রায়ও আমার পক্ষে রয়েছে। সরকার আপিল করলে উচ্চ আদালত ওই জায়গার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। জায়গার স্বপক্ষে সব প্রমাণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া আছে। আমার বিরুদ্ধে যা প্রচার করা হচ্ছে, তা নিছক অপপ্রচার।’

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহম্মেদ বলেন, ‘সৌন্দর্যবর্ধনের কাজটি সম্পন্ন হোক, তা আমিও চেয়েছি। কিন্তু নির্ধারিত জায়গায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কাজটি সম্পন্ন করা যায়নি।’

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৪০:২৪ ● ২১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ