মঙ্গলবার ● ২০ অক্টোবর ২০২৬
নাজিরপুরে ট্রলারডুবি: শিশুর মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ মা
হোম » পিরোজপুর » নাজিরপুরে ট্রলারডুবি: শিশুর মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ মা
![]()
সাগরকন্যা নাজিরপুর ও নেছারাবাদ প্রতিবেদক (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নাজিরপুরে কালিগঙ্গা নদীতে যাত্রী ও মোটরসাইকেলবোঝাই খেয়াট্রলারডুবির ঘটনায় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তার মা রিনা বেপারীর সন্ধান মেলেনি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১টা পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধারে অভিযান চললেও তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্ত্রী নিখোঁজ ও মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা শংকর বেপারী।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ও নেছারাবাদ উপজেলার ভরতকাঠী খেয়াঘাট এলাকার কালিগঙ্গা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রলারটিতে ছয়টি মোটরসাইকেলসহ বিপুলসংখ্যক যাত্রী ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গাপূজার অষ্টমী উপলক্ষে শ্রীরামকাঠী এলাকায় পূজা দেখতে গিয়েছিলেন শংকর বেপারী, তাঁর স্ত্রী রিনা ও মেয়ে। পূজা শেষে খেয়াট্রলারে করে ভরতকাঠী গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন তাঁরা।
শংকর বেপারীর অভিযোগ, সাইদুল নামের এক ব্যক্তির পরিচালিত ট্রলারটিতে আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ জন যাত্রী ও ছয়টি মোটরসাইকেল তোলা হয়েছিল। ট্রলারটি ঘাট ছাড়ার সময় একদিকে কাত হয়ে নদীতে ডুবে যায়। এ সময় অনেক যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে নিখোঁজ হন। পরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শংকর বেপারী জানান, ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার পর তিনি সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। কিন্তু স্ত্রী ও মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি। মেয়ের মৃত্যু ও স্ত্রীর নিখোঁজ থাকার ঘটনায় তিনি শোকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা তল্লাশির পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাত ১টার দিকে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। তবে সকাল ১১টা পর্যন্ত নিখোঁজ রিনা বেপারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
দৈহারী নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক নিয়াজ মোর্শেদ জানান, অতিরিক্ত যাত্রী ও মোটরসাইকেল বোঝাইয়ের কারণে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ফোরকান গাজী বলেন, রিনা বেপারী ও তাঁর মেয়ে ভরতকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা বিকেলে শ্রীরামকাঠীতে পূজা দেখতে গিয়েছিলেন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
তিনি জানান, ওই খেয়াঘাটে দিনে সাধারণত ১০ থেকে ১২টি খেয়াট্রলার চলাচল করে। তবে রাত ৮টার পর মাত্র একটি ট্রলার থাকে। ফলে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়। পূজার মতো বড় উৎসবে রাতে পর্যাপ্ত ট্রলারের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গুয়ারেখা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুর রহমান মিঠু জানান, পূজা উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রী ও মোটরসাইকেলবোঝাই ট্রলারটি ছাড়ার সময় একদিকে কাত হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মা ও মেয়ে নিখোঁজ হন। পরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হলেও তার মায়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, দুর্ঘটনাটি নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী এলাকায় ঘটেছে বলে তিনি জেনেছেন। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে তার মা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
এ দুর্ঘটনা নদীপথে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নৌযানের ধারণক্ষমতা এবং উৎসবের সময় খেয়াঘাটে পর্যাপ্ত নৌযান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।
বাংলাদেশ সময়: ১১:৩২:৫৮ ● ৩৯ বার পঠিত
