সোমবার ● ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শার্শায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা, প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যু
হোম » খুলনা » শার্শায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা, প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যু
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেনাপোল
যশোরের শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রী চম্পা খাতুনের (৩০) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মৃত্যুর আগে মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে শিক্ষক কবির হোসেনকে দায়ী করেছেন বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রবিবার (১৮ অক্টোবর) নিহতের ভাই তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শার্শা থানায় মামলা করেন।
নিহত চম্পা শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের ধান্যতাড়া গ্রামের প্রবাসী মিন্টু গাজীর স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী ভবানীপুর গ্রামের মৃত আহাদ আলীর মেয়ে। তাঁদের সংসারে ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী মেয়ে ও ছয় বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।
নিহতের ভাই তরিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ১৬ বছর আগে মিন্টু গাজীর সঙ্গে চম্পার বিয়ে হয়। জীবিকার তাগিদে প্রায় পাঁচ বছর আগে মিন্টু বিদেশে যান। এরপর ভবানীপুর গ্রামের নাজিমুদ্দিন ওরফে সোলেমানের ছেলে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কবির হোসেনের সঙ্গে চম্পার পরিচয় হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় চার বছর ধরে কবিরের সঙ্গে চম্পার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে চম্পা ও তাঁর স্বামীর পাঠানো বিভিন্ন অঙ্কের টাকা কবির নিয়েছেন বলেও অভিযোগ তাঁদের। সম্প্রতি কবির বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে চম্পা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে দাবি স্বজনদের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন চম্পা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ফোনে বিষয়টি তাঁর ভাইকে জানান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগআঁচড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর আগে চম্পা নিজের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেন। এতে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য কবিরকে দায়ী করেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘সে আমার সব শেষ করেছে। আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র কবির দায়ী, আর কেউ নয়।’
নিহতের ফুপা আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে তাঁরা মামলা করতে থানায় যান। দীর্ঘ সময় অবস্থান করেও তাৎক্ষণিকভাবে মামলা না হওয়ায় তাঁরা ফিরে আসেন। পরে রবিবার (১৮ অক্টোবর) নিহতের ভাই তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় শিক্ষক কবির হোসেনসহ দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, এ ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। অভিযুক্ত শিক্ষক কবির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সময়: ২১:১৩:০৬ ● ২০ বার পঠিত
