শনিবার ● ১৭ অক্টোবর ২০২৬

দিনের টেস্টে গোলাপি বল ব্যবহারের বিতর্ক, আপত্তি অস্ট্রেলিয়ার

হোম » খেলা » দিনের টেস্টে গোলাপি বল ব্যবহারের বিতর্ক, আপত্তি অস্ট্রেলিয়ার
শনিবার ● ১৭ অক্টোবর ২০২৬


দিনের টেস্টে গোলাপি বল ব্যবহারের বিতর্ক, আপত্তি অস্ট্রেলিয়ারসাগরকন্যা খেলা ডেস্ক

ক্রিকেটে লাল, সাদা ও গোলাপি বলের ব্যবহার নতুন নয়। তবে দিনের বেলার টেস্টে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি ডারবানে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্টে আলোর স্বল্পতায় বারবার খেলা বন্ধ হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, গোলাপি বল ব্যবহার করলে কি আরও বেশি সময় মাঠে ক্রিকেট গড়াত?

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নতুন প্লেয়িং কন্ডিশনে দিনের টেস্টেও গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলকে একমত হতে হবে। একবার গোলাপি বল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিলে পুরো ম্যাচে সেটিই ব্যবহার করতে হবে। ম্যাচ চলাকালে লাল বলের বদলে গোলাপি বল নেওয়ার সুযোগ নেই।

ডারবানে দুই দলই গোলাপি বল ব্যবহারে সম্মত হয়নি। ফলে আলোর স্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা বন্ধ করতে হয়েছে। প্রথম দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ৬৫ ওভার, যেখানে প্রতিদিন অন্তত ৯০ ওভার খেলার কথা। দ্বিতীয় দিনেও নির্ধারিত সময়ের আগে খেলা শেষ হয়। অস্ট্রেলিয়ার ৩৯০ রানের জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা তখন ১ উইকেটে ২৭ রান তুলেছিল।

শেষ পর্যন্ত ২১৪ রানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। তবে ম্যাচের ফল ছাপিয়ে আলোচনায় এসেছে গোলাপি বল ব্যবহারের সম্ভাবনা।

অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড দিনের টেস্টে গোলাপি বল ব্যবহারের বিপক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, গোলাপি বলের আচরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় পাঁচ দিনের টেস্টে এ সিদ্ধান্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘লাল বলের বদলে গোলাপি বল ব্যবহার করাটা আমার কাছে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়। বিশেষ করে ফ্লাডলাইটের নিচে বলটি কেমন আচরণ করবে, গোলাপি বল কতটা পুরোনো হলে কী হবে, এসবের অনেক দিক আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্যরা এ নিয়ে বিতর্ক করতে পারে; কিন্তু আমাদের উত্তর না।’

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক শন পোলক মনে করেন, গোলাপি বল নিয়ে অতিরিক্ত সংশয় ক্রিকেটের স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাঁর কাছে বলের রঙের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মাঠে কতক্ষণ খেলা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।

সুপারস্পোর্টের ধারাভাষ্যে পোলক বলেন, ‘আমি এক মুহূর্তের জন্যও বলছি না যে আমাদের গোলাপি বলে দিনরাতের ম্যাচ খেলা উচিত ছিল। আমি শুধু মনে করি, দিনের ম্যাচটিই গোলাপি বলে খেলা উচিত ছিল।’

গোলাপি বলের সমালোচনায় দ্বৈত মানদণ্ডের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন পোলক। তাঁর মতে, গোলাপি বলে ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটলে অনেকে বলের রংকে দায়ী করেন। আবার ব্যাটসম্যানরা ভালো খেললে বলা হয়, বল নরম হয়ে গেছে। অথচ লাল বলের ক্ষেত্রে একই পরিস্থিতিকে ক্রিকেটের স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হয়।

ডারবান টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে একপর্যায়ে ৬ উইকেটে ১২৪ রান ছিল। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে দলটি ৩৯০ রান করে। পোলকের প্রশ্ন, এই পরিস্থিতি গোলাপি বলে হলে সমালোচকেরা কীভাবে ব্যাখ্যা দিতেন?

তাঁর ভাষায়, ‘অস্ট্রেলিয়া যখন ৬ উইকেটে ১২৪ রানে ছিল, তখন যদি গোলাপি বলে খেলা হতো, সবাই বলত, এটা গোলাপি বলের দোষ।’

পোলকের দাবি, গোলাপি বল ব্যবহার করা হলে ডারবানে আরও ৪৫ ওভার টেস্ট ক্রিকেট দেখা যেত। আলোর স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার পরিবর্তে এই সময়টুকু কাজে লাগানো সম্ভব হতো বলে মনে করেন তিনি। ক্রিকেটারদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, ‘গোলাপি বল ব্যবহার করতে ভয় পাবেন না।’

লাল বলের তুলনায় গোলাপি ও কমলা বল আকাশে সহজে চোখে পড়ে বলেও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন পোলক।

দিনের টেস্টে গোলাপি বল ব্যবহারের বিতর্ক মূলত ঐতিহ্য, ক্রিকেটারদের অভ্যাস এবং খেলার সময় বাঁচানোর প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য খোঁজার প্রশ্ন। ম্যাকডোনাল্ড যেখানে বলের আচরণ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলছেন, পোলক সেখানে আলোর স্বল্পতায় হারিয়ে যাওয়া খেলার সময়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় টেস্ট ১৮ অক্টোবর গেবেরহায় শুরু হওয়ার কথা। এরপর কেপটাউনে সিরিজের শেষ ম্যাচ। সেখানেও আলোর স্বল্পতা দেখা দিলে গোলাপি বল নিয়ে আলোচনা ফিরতে পারে। তবে ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের সম্মতি না মিললে লাল বলেই খেলা চালিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ৯:৫৩:৪৮ ● ১৫ বার পঠিত