বৃহস্পতিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০২৬
কুয়াকাটায় দুর্গাপূজা ও বিচ কার্নিভাল ঘিরে পর্যটকের ঢল নামার সম্ভাবনা
হোম » কুয়াকাটা » কুয়াকাটায় দুর্গাপূজা ও বিচ কার্নিভাল ঘিরে পর্যটকের ঢল নামার সম্ভাবনা
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
আসন্ন দুর্গাপূজা ও বিচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। পাঁচ দিনের ছুটি ও দুই দিনব্যাপী বিচ কার্নিভাল ঘিরে সৈকতসংলগ্ন আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির অনেক হোটেল ও রিসোর্টের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে। পর্যটক আকর্ষণে কক্ষভাড়ায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ঘোষণাও দিয়েছে হোটেল মালিক সমিতি। অন্যদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আগামী মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটি, শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী বিচ কার্নিভাল মিলিয়ে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ধারণা, এ সময়ে কুয়াকাটায় দুই থেকে তিন লাখ পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে।
কার্নিভালে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিচ ম্যারাথন, বিচ ফুটবলসহ নানা আয়োজন থাকবে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির যৌথ আয়োজনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
উৎসব সামনে রেখে গত ১৪ অক্টোবর কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব মো. আরিফুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা সৈকত এলাকা পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে উৎসব সফল করতে করণীয় নির্ধারণের কথা রয়েছে।
এদিকে, সৈকতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা ও পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের অভিযানও চালানো হয়েছে। উৎসব ঘিরে চলছে নানা প্রস্তুতি।
কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল সৈকতের ব্যবস্থাপক রাজিব হোসেন বলেন, দুর্গাপূজা, সাপ্তাহিক ছুটি ও বিচ কার্নিভাল ঘিরে পর্যটকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাঁদের হোটেলের ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে।
কুয়াকাটা সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের সহকারী ব্যবস্থাপক আল আমিন খান উজ্জ্বল বলেন, তাঁদের কটেজ ও ভিলার ৭০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে শতভাগ বুকিং হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, দুর্গাপূজা ও কার্নিভাল ঘিরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে। তবে তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর অধিকাংশ কক্ষ এখনো ফাঁকা। এ সময়ে কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে তিনি আশা করছেন।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন, সে জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ ও এসআরবির পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, পাঁচ দিনের ছুটি ও বিচ কার্নিভাল ঘিরে কুয়াকাটাকে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে। থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩৮:০৪ ● ১৯ বার পঠিত
