সোমবার ● ১২ অক্টোবর ২০২৬

খুলনায় আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরায় ফিরছেন ডেঙ্গু রোগীরা, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ২৪

হোম » সর্বশেষ » খুলনায় আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরায় ফিরছেন ডেঙ্গু রোগীরা, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ২৪
সোমবার ● ১২ অক্টোবর ২০২৬


 

খুলনায় আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরায় ফিরছেন ডেঙ্গু রোগীরা, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ২৪

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

 

খুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরায় ফিরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। কাজ ও পড়াশোনার কারণে খুলনায় অবস্থান করা সাতক্ষীরার বাসিন্দারা সেখানে আক্রান্ত হওয়ার পর নিজ জেলায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে সাতক্ষীরাতেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬২ জন।

 

রবিবার সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত সাতক্ষীরার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৮২৯ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৪৬ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে ২০ জনকে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ২৪ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২২ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে দুজন। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, কালীগঞ্জে সাতজন, দেবহাটায় একজন, শ্যামনগরে দুজন এবং সদর হাসপাতালে একজন ভর্তি হয়েছেন।

 

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম বলেন, সারা দেশেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। সাতক্ষীরাতেও রোগী বাড়ছে। তবে জেলার বেশির ভাগ রোগী খুলনায় আক্রান্ত হয়ে নিজ জেলায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কাজের কারণে সাতক্ষীরার অনেক মানুষ খুলনায় থাকেন।

 

খুলনায় আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরায় ফিরে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের একজন সঞ্জীব সানার স্ত্রী। মেয়ের পড়াশোনার কারণে তিনি খুলনায় থাকতেন। সেখানে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর টানা ছয় দিন অসুস্থ ছিলেন। পরে তাঁকে সাতক্ষীরায় এনে ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

এদিকে ঢাকার একটি কোম্পানিতে কর্মরত মো. মোফিজুল ইসলামের ছেলেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরায় ফিরে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। পুনরায় পরীক্ষা করালে তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। মোফিজুল ইসলাম জানান, তাঁর ছেলে বর্তমানে মোটামুটি সুস্থ। চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি।

 

সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম আরও বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় জেলায় কোনো সংকট নেই। তাঁদের জন্য আলাদা শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যাপ্ত ওষুধ ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত আছে। বিনা মূল্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে। চিকিৎসকেরাও ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন।

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল চত্বরে কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১:৪৬:০৮ ● ৯৭ বার পঠিত