বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬
নেছারাবাদে মাইকিং করে জাটকা বিক্রি, ছিল না প্রশাসনের নজরদারি
হোম » জেলে-মৎস্য » নেছারাবাদে মাইকিং করে জাটকা বিক্রি, ছিল না প্রশাসনের নজরদারি
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদের জগন্নাথকাঠি ও মিয়ারহাট বাজারে মাইকিং করে ছোট আকারের ইলিশ বা জাটকা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাজার দুটিতে কেজিতে ১০ থেকে ১২টি ছোট ইলিশ ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ সময় মাছ কিনতে ক্রেতাদের ভিড়ও দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে ‘৫০০ টাকা কেজি ইলিশ’ বিক্রির কথা বলে মাইকিং করা হয়। পরে বাজারে গিয়ে ক্রেতারা ছোট আকারের ইলিশ দেখতে পান। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জগন্নাথকাঠি ও মিয়ারহাট বাজারের বিভিন্ন মাছের দোকানে ছোট আকারের ইলিশ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কেউ মাছ কিনছেন, আবার কেউ মাছের আকার ও দাম দেখে ফিরে যাচ্ছেন। কয়েকজন বিক্রেতাকে মাইকিং করে ক্রেতাদের মাছ কেনার আহ্বান জানাতেও দেখা যায়।
জগন্নাথকাঠি বাজারের মাছ বিক্রেতা আসলাম মিয়া বলেন, ‘ইলিশ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এ কারণে প্রচুর ইলিশ বাজারে এসেছে। আমরা ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে মাছ বিক্রি করছি। ক্রেতারাও আগ্রহ করে কিনছেন। মাছ বিক্রি না করলে চালানের টাকা আটকে থাকবে। তাই বাজারদরের চেয়ে কম দামে মাছ বিক্রি করছি।’
জগন্নাথকাঠি বাজারে মাছ কিনতে আসা ইউসুফ মিয়া বলেন, ‘স্বরূপকাঠি বাজারে মাইকিং করে ৫০০ টাকা কেজি দরে ইলিশ বিক্রির কথা বলা হচ্ছিল। তাই মাছ কিনতে এসেছিলাম। এসে দেখি ছোট আকারের ইলিশ ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাইকিং করে এভাবে ছোট মাছ বিক্রি করা ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তাই মাছ না কিনেই চলে এসেছি।’
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারিয়া কনক বলেন, ‘বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন করা যাবে। তাই হয়তো তারা মাইকিং করে মাছ বিক্রি করছে। তবে ঝাটকা বিক্রি হচ্ছে, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’
বরিশাল বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, পিরোজপুরে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল বিতরণ শেষ হয়েছে। বরগুনাসহ অন্যান্য জেলাতেও প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই চাল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদী বা সাগরে ইলিশ শিকারে নামলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান’। ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগরে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুত নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগমুহূর্তে বাজারে ছোট আকারের ইলিশ বিক্রির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে বাজারগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ সময়: ২১:৪৮:০২ ● ৩২ বার পঠিত
