বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬
বাবাকে হত্যার পর ছেলেকেও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
হোম » পটুয়াখালী » বাবাকে হত্যার পর ছেলেকেও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচিত হারিচ আহম্মেদ হত্যা মামলার বাদী ও নিহতের ছেলে বাবুল মিয়াকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়ার পর সর্বশেষ তাঁকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু সংলগ্ন টিয়াখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন বাবুল মিয়া। তাঁর দাবি, স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশায় করে আদালতে যাওয়ার পথে একদল ব্যক্তি তাঁর গতিরোধ করে। পরে তাঁকে অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়।
বাবুল মিয়ার ভাষ্য, তাঁর স্ত্রীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি আদালতে জিআরওর কাছে গেলে তাঁকে কলাপাড়া থানায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তিনি কলাপাড়া থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।
বাবুল মিয়া বলেন, গত ১৯ জুলাই তাঁর বাবা হারিচ আহম্মেদকে মারধর ও কাদা-পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে নির্যাতন করা হয় বলে তাঁর অভিযোগ। পরে ২১ জুলাই তিনি বাবার হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করেন। এরপর থেকেই মামলার আসামিরা তাঁকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিয়ে আসছেন বলে দাবি তাঁর।
তিনি আরও বলেন, কলাপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁকে ডেকে নিয়ে আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তাঁর অভিযোগ, হত্যা মামলার আসামি জসীম খন্দকারের নেতৃত্বে খলিলসহ কয়েকজন তাঁকে মারধরের সময় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বারবার চাপ দেন।
বাবুল মিয়ার স্ত্রী সীমা বেগমের অভিযোগ, মারধরের পর তাঁর স্বামীকে কলাপাড়া হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও একদল লোক তাঁকে খুঁজতে যায়। পরে স্বামীর প্রাণনাশের আশঙ্কায় কৌশলে তাঁকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, রাতে আবারও ওই ব্যক্তিরা হাসপাতালে আসেন। স্বামীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হত্যা মামলার আসামি জসীম খন্দকার। তিনি বলেন, ঘটনার দিন তিনি কৃষিকাজে ছিলেন। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে প্রমাণ রয়েছে। ষড়যন্ত্র করে তাঁকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, হারিচ আহম্মেদের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মারামারির ঘটনার সত্যতা পাননি। বাবুল মিয়া চাইলে আদালতে মামলা করতে পারেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:৩৯:৪৫ ● ১৯ বার পঠিত
