বুধবার ● ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেছারাবাদে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ উধাও, দুই যুবকের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ

হোম » শিক্ষা » নেছারাবাদে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ উধাও, দুই যুবকের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ
বুধবার ● ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নেছারাবাদে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ উধাও, দুই যুবকের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

পিরোজপুরের নেছারাবাদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ স্কুল ফিডিংয়ের ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত দুই যুবক হলেন স্থানীয় ‘বিন্না ইয়ংমেন্স ক্লাবের’ সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. নাদিম মাহমুদ ও তাঁর বন্ধু মো. রাশেদ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নাদিম মাহমুদ বলেন, তিনি ও তাঁর দুই বন্ধু বিদ্যালয় থেকে মাত্র তিন প্যাকেট দুধ নিয়ে খেয়েছেন। দুধগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ছিল, তা তাঁরা জানতেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসাৎ আশা বলেন, গত শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী আসেন। তাঁদের আপ্যায়নে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সুযোগে লাইব্রেরিতে রাখা স্কুল ফিডিংয়ের দুধ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাঁর দাবি, নাদিমসহ স্থানীয় চার যুবক ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যান। নাদিম স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযুক্ত নাদিম বলেন, ‘আমিসহ তিন বন্ধু স্কুল থেকে তিন প্যাকেট দুধ নিয়ে খেয়েছি। এখন শুনছি ৩০ প্যাকেট চুরি হয়েছে। আমরা মনে করেছিলাম দুধগুলো শিক্ষকদের। পরে জানতে পারি, এগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য।’

বিন্না ইয়ংমেন্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মহিবুল্লাহ বলেন, নাদিম তাঁদের ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক। তিনি শুনেছেন, নাদিম ও তাঁর বন্ধুরা তিন প্যাকেট দুধ নিয়ে খেয়েছেন। দুধগুলো শিশুদের জন্য বরাদ্দ ছিল, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিন্নায় নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা বিদ্যালয়ে আসায় অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করতে স্কুল খুলে দেওয়া হয়। শিক্ষকরা তাঁদের আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকার সময় তিনি ওয়াশরুমে যান। এ সুযোগে লাইব্রেরিতে রাখা ৭৯ প্যাকেট দুধের মধ্যে ৩০ প্যাকেট নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক বলেন, পরদিন শিশুদের টিফিনে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ দিতে গিয়ে ৩০ প্যাকেট কম পাওয়া যায়। পরে খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, কয়েকজন যুবক দুধ নিয়ে গিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই বসে খেয়েছেন। ঘটনাটি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও দেখেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানোর কথা জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

বাংলাদেশ সময়: ১২:০৭:১৬ ● ২২ বার পঠিত