সোমবার ● ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মনপুরায় কলেজ অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ, যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের অস্বীকার
হোম » ভোলা » মনপুরায় কলেজ অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ, যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের অস্বীকার
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মনপুরা (ভোলা)
ভোলার মনপুরায় কলেজ অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মিয়ার ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডা. কামাল উদ্দিনের নির্দেশে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আহত অধ্যক্ষ।
রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হাজিরহাট সদর উপজেলা মডেল মসজিদে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
আহত মো. মহিউদ্দিন মিয়া ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি মনপুরা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং মনপুরা মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ।
অধ্যক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে রবিবার রাত ১১টার দিকে মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা ও সদস্যসচিব হাফেজ আবদুর রহিম।
তারা বলেন, মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালে মো. মহিউদ্দিন মিয়া অন্যায়ভাবে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সেলিমকে চাকরিচ্যুত করেন। এ কারণে সেলিমের মধ্যে অধ্যক্ষের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয় এবং সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এ ঘটনায় যুবদল বা স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নন। অধ্যক্ষের এমন অভিযোগের নিন্দা জানান তারা।
একইভাবে অধ্যক্ষের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নন বলে দাবি করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ও সদস্যসচিব হোসেন হাওলাদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মিয়া তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মো. সেলিমকে চাকরিচ্যুত করেন। চাকরি ফিরে পেতে সেলিম সংবাদ সম্মেলন করেন। বিষয়টি জাতীয় ও আঞ্চলিক একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
চাকরিচ্যুতির ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেলিমসহ তাঁর আত্মীয়স্বজনেরা মডেল মসজিদে অধ্যক্ষের পথরোধ করে কথা কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে তাঁরা অধ্যক্ষের ওপর হামলা ও মারধর করেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘অসুস্থ বাবাকে দেখতে পরিবার নিয়ে মনপুরায় এসেছি। মডেল মসজিদে নামাজ শেষে হাদিসের তালিমের পর যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা আমার ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেন।’ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডা. কামাল উদ্দিনের নির্দেশে এ হামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের চাকরিচ্যুত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সেলিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘অবৈধভাবে কেন আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তা জানতে সাবেক অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার ওপর হাত তোলেন।’
উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডা. কামাল উদ্দিনও অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছি। মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের চাকরিচ্যুতির ঘটনা নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে গন্ডগোল হয়েছে। এতে বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেউ জড়িত নন।’
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩১:১১ ● ৩৫ বার পঠিত
