রবিবার ● ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেছারাবাদে প্রতিবন্ধী কার্ডে ‘দালাল ফি’ ৫ হাজার টাকা!
হোম » পিরোজপুর » নেছারাবাদে প্রতিবন্ধী কার্ডে ‘দালাল ফি’ ৫ হাজার টাকা!
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী কার্ড করতে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনলাইনে আবেদন, ফর্ম পূরণ ও জমা দেওয়া থেকে শুরু করে কার্ড হাতে পাওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ফর্ম জমা দিতে এসে এ অভিযোগ করেন সোহাগদল ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের সাহানা বেগম। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের এলাকায় হাফিজা আক্তার নামে এক নারী ঘুরে ঘুরে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেন।
সাহানা বেগম জানান, তাঁর ছোট প্রতিবন্ধী ছেলের কার্ড করার জন্য অনলাইন আবেদন বাবদ প্রথমে হাফিজা আক্তারকে ৫০০ টাকা দেন। প্রায় দুই সপ্তাহ পর হাফিজা একটি ফর্ম এনে সেটি অফিসে জমা দেওয়ার পর আরও ২ হাজার টাকা দাবি করেন। কার্ড পাওয়ার পর আরও ২ হাজার টাকা দিতে হবে বলেও তাঁকে জানানো হয়।
তিনি বলেন, তাঁর স্বামী করাতকলে সামান্য বেতনে কাজ করেন। অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় তিনি নিজেই উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে এসে ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমকে বিষয়টি জানান। তাঁর দাবি, একই এলাকা থেকে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য ৫০০ টাকা এবং পরে ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
সাহানা বেগমের অভিযোগ, ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমের স্বামীর সঙ্গে কথিত দালাল হাফিজা আক্তারের সখ্যতা রয়েছে। টাকা দেওয়া ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী কার্ড পেতে তেমন বেগ পেতে হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রবিবার সরেজমিনে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে হাফিজা আক্তারকে পাওয়া যায়নি। তবে আকলিমা নামে এক নারীকে কয়েকটি প্রতিবন্ধী কার্ডের ফর্মের কাগজপত্রসহ অফিসে দেখা যায়। ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দ্রুত সরে যান।
পরে ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁর স্বামী অফিসে উপস্থিত থেকে প্রথমে জানান, তাঁর স্ত্রী অসুস্থ এবং এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন। একপর্যায়ে রেহানা বেগম তাঁর স্বামীকে অফিস থেকে চলে যেতে বললে তিনি বেরিয়ে যান।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগম বলেন, ‘আমি কোনো দালালকে চিনি না। অফিসে এসে ফর্ম জমা দিলেই স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করি। দালালদের সঙ্গে আমার স্বামীর কোনো সখ্যতা নেই।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দীন বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। অফিসের কাজে একটু বাইরে আছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। প্রতিবন্ধী ফর্ম পূরণসহ কার্ড পেতে অফিসে কোনো টাকা লাগে না।’
প্রতিবন্ধী কার্ডের মতো সরকারি সেবা নিতে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ এবং সমাজসেবা কার্যালয়ে কথিত দালালদের ফর্ম নিয়ে অবস্থানের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দালালচক্রের সঙ্গে অফিসের কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয়রাও বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ২০:০৫:০৩ ● ৪০ বার পঠিত
