রবিবার ● ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরগুনায় যৌতুক না দেওয়ায় স্ত্রীকে ওড়না পেঁচিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

হোম » বরগুনা » বরগুনায় যৌতুক না দেওয়ায় স্ত্রীকে ওড়না পেঁচিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
রবিবার ● ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

বরগুনায় যৌতুক না দেওয়ায় স্ত্রীকে ওড়না পেঁচিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনার পাথরঘাটায় পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না দেওয়ায় স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মো. মোশাররফ হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী শিশুকন্যাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন ওই গৃহবধূ।

 

এ ঘটনায় স্বামী মোশাররফ হোসেন ও তাঁর বোন নুরজাহান ফকিরের বিরুদ্ধে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মামলাটি গ্রহণ করে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আসামিদের বিরুদ্ধে এজাহার রুজুর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি।

 

অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন পাথরঘাটা পৌরসভার মৃত আক্কেল আলীর ছেলে।

 

মামলার অভিযোগে ওই গৃহবধূ বলেন, ২০২৩ সালের ৩ আগস্ট মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই ব্যবসা করার জন্য বাবার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে তাঁকে চাপ দিতেন স্বামী। টাকা দিতে না পারায় বিভিন্ন সময় তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে স্বামীর বসতঘরে আবারও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মোশাররফ হোসেন ও তাঁর বোন মেহগনি গাছের লাঠি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে একাধিকবার লাথি মারা হয়। এতে তাঁর রক্তক্ষরণ হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এরপর গলায় থাকা ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে মৃত ভেবে শিশুসন্তানসহ ঘরে তালাবদ্ধ করে স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা চলে যান বলে দাবি করেন ওই গৃহবধূ।

 

পরে জ্ঞান ফিরলে তিনি মুঠোফোনে বাবাকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে বাবা ও স্বজনেরা এসে তাঁকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে দুই দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি আদালতে মামলা করেন।

 

অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর একাধিক মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৬:১১ ● ১৯ বার পঠিত