বুধবার ● ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছেলে যুবলীগ নেতা, তাই চাষাবাদে বাধা; দুই বছর অনাবাদি প্রায় ৬ একর জমি

হোম » পটুয়াখালী » ছেলে যুবলীগ নেতা, তাই চাষাবাদে বাধা; দুই বছর অনাবাদি প্রায় ৬ একর জমি
বুধবার ● ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা, তাই চাষাবাদে বাধা; দুই বছর অনাবাদি প্রায় ৬ একর জমি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছেলে আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় প্রায় ছয় একর জমিতে চাষাবাদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে গত দুই বছর ধরে জমিগুলো অনাবাদি পড়ে আছে বলে দাবি করেছেন জমির মালিক আবদুল খালেক। উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের বড় বালিয়াতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

 

ভুক্তভোগী আবদুল খালেক জমি চাষাবাদের সুযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির দাবিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন বলে জানিয়েছেন।

 

আবদুল খালেক বলেন, বড় বালিয়াতলী মৌজার এসএ ৩৯, ৪০, ৪২ ও ৪৪ নম্বর খতিয়ানের ৪৯৫ নম্বর দলিলসহ আরও নয়টি দলিলের মাধ্যমে তিনি, তাঁর ভাই, স্ত্রী ও ছেলেরা মোট ৫ দশমিক ৭৫ একর জমি ক্রয়সূত্রে মালিক। এসব জমি তাঁদের নামে ৬৫, ৬৫ ও ৩৩১ নম্বর খতিয়ানে বিএস রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। ১৯৫৪ সাল থেকে তাঁর বাবা বাদশা মিয়া এবং পরবর্তী সময়ে তিনি এসব জমি ভোগদখল করে আসছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

 

আবদুল খালেকের দাবি, তাঁর বড় ছেলে শামীম আল সাইফুল সোহাগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর একই এলাকার নজরুল ইসলাম নকু, হানিফ মিয়া, বশির মুন্সী ও সোহেল মুন্সী তাঁদের জমিতে চাষাবাদে বাধা দেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য কয়েক দফা সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নজরুল ইসলাম নকু ও তাঁর পক্ষের লোকজন উপস্থিত হননি। এরপর থেকে জমিগুলো অনাবাদি পড়ে আছে বলে জানান তিনি।

 

আবদুল খালেক আরও বলেন, বর্তমানে নকু পক্ষ জমিগুলো দখলের চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সম্প্রতি নজরুল ইসলাম নকুসহ চারজনের বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

 

বড় বালিয়াতলী গ্রামের মো. দেলোয়ার মৃধা বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি আবদুল খালেক চাচা এসব জমিতে চাষাবাদ করছেন। কিন্তু ২০২৪ সালের পর নজরুল ইসলাম নকু ও তাঁর পক্ষের লোকজন জমিগুলোতে চাষাবাদে বাধা দেন। এরপর থেকে জমিগুলো অনাবাদি রয়েছে।’

 

একই এলাকার মো. নেছার বলেন, ‘প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা এসব জমি খালেক মিয়াকে চাষ করতে দেখে আসছি। এখন তাঁকে চাষাবাদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে জমিগুলো অনাবাদি পড়ে আছে।’

 

আবদুল খালেকের ছেলে শামীম আল সাইফুল সোহাগ বলেন, ‘আমি ১৪ মাস কারাভোগ করেছি। এ সময় আমার বাবাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি চাষাবাদে বাধা দেওয়া হয়েছে। যারা জমি দখলের চেষ্টা করছে, তাদের কাছে জমির বৈধ কাগজপত্র নেই। তারা ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে আমাদের পাঁচ একরের বেশি জমি দখলের চেষ্টা করছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।’

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. নজরুল ইসলাম নকু। তিনি বলেন, ‘আমার দাদা আমির হোসেনের কাছ থেকে মেয়াদি পাট্টা হিসেবে খালেক, আমানউল্লাহ মাস্টার, সালাম ও দেলোয়ারের নামে কাগজপত্র দেওয়া হয়েছিল। অনেক আগেই ওই পাট্টার মেয়াদ শেষ হয়েছে। পরে জমিটি ফেরত চাইতে গেলে তাঁর ছেলে সোহাগ যুবলীগ নেতা হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জমিটি ভোগদখলে রাখেন এবং আমাকে মারধরের হুমকি দেন।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে আমি জমিটি চাষাবাদ করতে গেলে স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবুল হাজী বিষয়টি সমাধান করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। এ কারণে আমি জমিতে চাষাবাদ করিনি। তাঁরাও যাতে জমিতে চাষাবাদ করতে না পারেন, সে ধরনের কোনো উদ্যোগ আমি নিইনি। তাঁদের বাড়িঘরে হামলা বা উচ্ছেদের হুমকিও দিইনি। আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তবে আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

 

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতে কোনো মামলা চলমান থাকলে জমিসংক্রান্ত বিষয়টি আদালতেই নিষ্পত্তি হবে। তবে এ বিষয়কে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৩:০৯:১৩ ● ২৫ বার পঠিত