শুক্রবার ● ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগৈলঝাড়া থানায় হামলার মামলায় দুই সাংবাদিকের আগাম জামিন

হোম » বরিশাল » আগৈলঝাড়া থানায় হামলার মামলায় দুই সাংবাদিকের আগাম জামিন
শুক্রবার ● ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

আগৈলঝাড়া থানায় হামলার মামলায় দুই সাংবাদিকের আগাম জামিন

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)

 

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দৈনিক যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামসহ দুই সাংবাদিককে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের বরিশালের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. সালিম ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী, হাইকোর্ট বিভাগের অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহিল মারুফ ফাহিম।

 

মামলায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভির প্রতিনিধি এফ এম নাজমুল রিপনকে ২১ নম্বর এবং প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে ২৩ নম্বর আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

জানা গেছে, থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনশ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

 

স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, ওই দুই সাংবাদিক কেবল সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে হয়রানির উদ্দেশ্যে তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত ১১ জুলাই আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি মাদকসহ চারজনকে আটকের পর টাকার বিনিময়ে তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া এবং একজনকে আদালতে পাঠানোর অভিযোগে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর পুলিশ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় আসামি করেছে।

 

তিনি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

বাংলা টিভির প্রতিনিধি এফ এম নাজমুল রিপন বলেন, মাদকসংক্রান্ত কয়েকটি সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন ব্যক্তিকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করানো হয়েছে। থানায় হামলার ঘটনায় আমরা সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছি। তারপরও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।

 

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদ খান বলেন, তদন্ত শেষে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের পাশাপাশি ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে আরও ১৭ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬০ জনের বিরুদ্ধে গত ২৭ আগস্ট বরিশালের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই রাতে একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। পুলিশ হেফাজতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

পরদিন রিয়াজ ফকির পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছেন- এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে মিছিল নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন। এ সময় থানায় হামলা, ভাঙচুর এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৫:৫৩ ● ২২ বার পঠিত