শুক্রবার ● ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সভাপতি হতে বিএনপি নেতার জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ
হোম » বরিশাল » সভাপতি হতে বিএনপি নেতার জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য জাল ডিগ্রি পাসের সনদ জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযোগ ওঠা মাসুম বিল্লাহ বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত ৩ আগস্ট ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে উপজেলা বিএনপি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর ইউনিয়নের ৫৯ নম্বর ভোজমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে মাসুম বিল্লাহর নাম প্রস্তাব করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে কমিটির তালিকা পাঠানো হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে ডিগ্রি পাসের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক হওয়ায় মাসুম বিল্লাহর নামে ঢাকার তিতুমীর কলেজের ২০০২-০৪ শিক্ষাবর্ষের একটি ডিগ্রি পাসের সনদ জমা দেওয়া হয়।
স্থানীয় এক ব্যক্তির আবেদনের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানায়, ওই শিক্ষাবর্ষে একই নাম, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরে মাসুম বিল্লাহ নামে একজন ডিগ্রি পাস করেছেন। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ওই ব্যক্তির বাবার নাম নুরুল ইসলাম এবং মায়ের নাম নুর জাহান।
অন্যদিকে, প্রস্তাবিত সভাপতি মাসুম বিল্লাহর জমা দেওয়া সনদে বাবার নাম ফজলুর রহমান হাওলাদার এবং মায়ের নাম জাহানারা বেগম উল্লেখ রয়েছে। শিক্ষাবর্ষ, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর একই হলেও মা-বাবার নামের ভিন্নতা থাকায় সনদটি জাল বা টেম্পারিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, তাঁর সনদটি সঠিক। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যের সঙ্গে মা-বাবার নামের ভিন্নতার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
ভোজমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ববিতা রানী বলেন, ‘মাসুম বিল্লাহকে সভাপতি করে প্রস্তাবিত কমিটি উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। সনদ নিয়ে জটিলতার বিষয়টি আমরা পরে জানতে পেরেছি।’
বাকেরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর মাসুম বিল্লাহকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাসের সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, তাঁর অন্যান্য সনদে বাবার নাম ফজলুর রহমান হাওলাদার এবং মায়ের নাম জাহানারা বেগম রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া লিখিত তথ্যের কপি জমা দিয়েছেন। সেখানে একই শিক্ষাবর্ষ, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরে মাসুম বিল্লাহ নামে একজনের বাবা-মায়ের নাম নুরুল ইসলাম ও নুর জাহান উল্লেখ রয়েছে। মাসুম বিল্লাহর জমা দেওয়া ডিগ্রি সনদটি জাল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র পাল বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:০৩:২৭ ● ২৩ বার পঠিত
