মঙ্গলবার ● ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরগুনায় দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতির মধ্যেই এসআই বেলালের মৃত্যু

হোম » বরগুনা » বরগুনায় দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতির মধ্যেই এসআই বেলালের মৃত্যু
মঙ্গলবার ● ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

বরগুনায় দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতির মধ্যেই এসআই বেলালের মৃত্যু

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালনে পুলিশ লাইন্সে এসেছিলেন। কর্মব্যস্ত সকাল শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেলেন বরগুনা জেলা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বেলাল হোসেন (৪০)।

 

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা ৩২ মিনিটে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে বরগুনা জেলা পুলিশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৭টা ৫ মিনিটে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এসআই বেলাল হোসেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ লাইন্সের আরআইকে জানানো হলে পুলিশ হাসপাতালের মাধ্যমে দ্রুত তাঁকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

 

মো. বেলাল হোসেন বরিশাল জেলার কাউনিয়া থানার শায়েস্তাবাদ এলাকার মো. রুস্তম হাওলাদারের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী লাকি, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

 

জানা গেছে, বেলাল হোসেন ১৯৮৬ সালের ৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০৬ সালের ২৯ মার্চ বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ২০ বছর পুলিশে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

 

মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর বরগুনা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মুকিত হাসান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইশতিয়াক আহমেদ, পিপিএমসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা অংশ নেন।

 

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা মরহুম বেলাল হোসেনের কর্মজীবনের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

 

স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী লাকি। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী সুস্থ ছিলেন। আমরা কল্পনাও করতে পারিনি আল্লাহ তাঁকে এত সকালে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যাবেন। সবাই আমার স্বামীর জন্য দোয়া করবেন।’

 

সন্ধ্যায় মরহুমের মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁকে দাফন করা হবে।

 

একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যেও শোকের আবহ নেমে এসেছে। বরগুনা জেলা পুলিশের সদস্যরা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৪:১২ ● ২০ বার পঠিত