সোমবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৬
দশমিনায় মুসার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পাশে প্রশাসন
হোম » পটুয়াখালী » দশমিনায় মুসার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পাশে প্রশাসন
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দশমিনা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দশমিনায় ১ লাখ টাকায় দেড় বছরের শিশুসন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগের পর উদ্ধার হওয়া শিশু মুসার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় তার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শিশুটির কল্যাণে আর্থিক সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসানের উপস্থিতিতে শিশু মুসাকে তার দাদা মফিজ মুন্সী ও দাদী মাহফুজা বেগমের জিম্মায় দেওয়া হয়। তারা শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের কাঠমিস্ত্রি মারুফ মুন্সির সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় এক মাস আগে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। গত শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমের কাছ থেকে ছেলে মুসাকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও শিশুসহ তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরে মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মারুফ স্বীকার করেন, ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সন্তান বিক্রির টাকা নিয়ে মারুফ দ্রুত ঢাকায় চলে যান। সেখানে পুরোনো মোবাইল ফোন পরিবর্তন করে একটি নতুন আইফোন কেনেন।
রবিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। একই দিন সন্ধ্যায় অভিযুক্ত বাবা মারুফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ সন্তান বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইমরান হোসেনকে থানায় ডেকে আনা হয়। পরে ইমরান জানান, শিশুটিকে গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে তার শ্বশুর মাহাবুব গাজীর বাড়িতে রাখা হয়েছে।
এরপর রবিবার রাত ১০টার দিকে মাহাবুব গাজী শিশু মুসাকে নিয়ে দশমিনা থানায় উপস্থিত হন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার দাদা-দাদীর জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, পুলিশের বিশেষ কৌশলে দেড় বছরের শিশু মুসাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পরে ইউএনও মো. মাহমুদ হাসানের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার দাদা মফিজ মুন্সী ও দাদী মাহফুজা বেগমের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ইউএনও মো. মাহমুদ হাসান জানান, বিক্রি হয়ে যাওয়া শিশুটিকে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করে তার দাদা-দাদীর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তারা শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, শিশুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। শিশুটির নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাসহ তার কল্যাণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ সময়: ১২:৫৮:২০ ● ৩৯ বার পঠিত
