শনিবার ● ২৯ আগস্ট ২০২৬
কলাপাড়ায় জরাজীর্ণ ভাসমান সেতুতে দুর্ভোগ, ৩০ বছরেও হয়নি স্থায়ী সেতু
হোম » পটুয়াখালী » কলাপাড়ায় জরাজীর্ণ ভাসমান সেতুতে দুর্ভোগ, ৩০ বছরেও হয়নি স্থায়ী সেতু

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পাখিমারা খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় প্রায় ৩০ বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পাঁচ শতাধিক সবজি চাষিসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ ভাসমান সেতু, নৌকা ও কাদামাখা পথ পেরিয়ে প্রতিদিন কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে যেতে হচ্ছে তাদের। অথচ এ অঞ্চল থেকে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদিত হলেও দীর্ঘ তিন দশকেও নির্মাণ হয়নি একটি স্থায়ী সেতু।
কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা, নেয়ামতপুর ও এলেমপুর গ্রামের কৃষকদের কৃষিপণ্য বাজারজাতের প্রধান পথ পাখিমারা খালের ওপরের এই পারাপার ব্যবস্থা। স্থানীয়দের দাবি, এ তিন গ্রাম থেকে উৎপাদিত সবজি দিয়ে কলাপাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয়। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সবজি প্রতিদিন বাস, ট্রাক ও পিকআপে দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তে পাঠানো হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। গ্রামগুলোর অভ্যন্তরীণ মাটির রাস্তা কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তখন দূরের কৃষকদের নৌকায় করে পাখিমারার পাইকারি বাজারে কৃষিপণ্য আনতে হয়। কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথে দীর্ঘ তিন দশকেও স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানান, পাখিমারা খালের প্রায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত অংশ পারাপারে বর্তমানে কৃষকরা নিজেদের অর্থায়নে ড্রামের ওপর নির্মিত কাঠের পাটাতনের ভাসমান সেতুর ওপর নির্ভরশীল। নিজেদের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন এনজিওর সহায়তায় কয়েক দফা সেতুটি মেরামত করা হলেও দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
কুমিরমারা গ্রামের প্রবীণ কৃষক সুলতান গাজী বলেন, ৪০-৪৫ বছর ধরে সবজি চাষ করছি। কুমিরমারাসহ তিনটি গ্রামের অন্তত সাড়ে পাঁচশ কৃষক প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন। এসব পণ্য পাখিমারার আড়তে নিতে হয়। বর্ষায় কাদা ও নৌকার কারণে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। এত বছরেও এখানে একটি পাকা সেতু হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০১৬ সালে চাকামইয়া এলাকার আরপাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর ভেঙে পড়া একটি লোহার সেতুর মালামাল এনে পাখিমারা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নির্মাণের দুই বছরের মধ্যেই সেটি নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সেতু নির্মাণে ভালো মানের খুঁটি ও স্লিপারের পরিবর্তে নিম্নমানের ও অকেজো মালামাল ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সেতুটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর থেকে ভাসমান ড্রাম সেতুই কৃষকদের একমাত্র ভরসা। বছরের পর বছর ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। তাদের দাবি, কোটি কোটি টাকার কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত স্থায়ীভাবে উন্নয়ন করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন পক্ষ সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও পরে তা বাস্তবায়ন হয় না।
এ বিষয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান বলেন, পাখিমারা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এটি বাস্তবায়ন করবে। নীলগঞ্জের সবজি চাষিদের দুর্ভোগ কমানো এবং কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ করতেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কুমিরমারার সবজি চাষিসহ এলাকার কৃষকদের কৃষিপণ্য পরিবহন ও যোগাযোগ সুবিধার জন্য পাখিমারা খালের ওপর ৪৯০ মিটার দীর্ঘ একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ডিজাইন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পথে এবং নেভিগেশন ছাড়পত্রও নেওয়া হয়েছে। এখন একনেকের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, আর আশ্বাস নয়, দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন করে পাখিমারা খালের ওপর স্থায়ী গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এতে পাঁচ শতাধিক সবজি চাষির দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং এ অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:০২:২০ ● ২৬ বার পঠিত
