শুক্রবার ● ২৮ আগস্ট ২০২৬

বাউফলে বিষ দেওয়া ঘাস খেয়ে ৩ মহিষের মৃত্যু, অসুস্থ ৩০

হোম » পটুয়াখালী » বাউফলে বিষ দেওয়া ঘাস খেয়ে ৩ মহিষের মৃত্যু, অসুস্থ ৩০
শুক্রবার ● ২৮ আগস্ট ২০২৬


 

বাউফলে বিষ দেওয়া ঘাস খেয়ে ৩ মহিষের মৃত্যু, অসুস্থ ৩০

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর বাউফলে চরের ঘাসে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। সেই ঘাস খেয়ে ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনটি মহিষ মারা গেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের লালচরে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় ও মহিষ মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর ইউনিয়নের লালচরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও খামারিরা উন্মুক্তভাবে মহিষ পালন করে আসছেন। চরের বিস্তীর্ণ এলাকার ঘাসই এসব মহিষের প্রধান খাবার। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও রাখালেরা শতাধিক মহিষ নিয়ে চরে যান। ঘাস খাওয়ার কিছুক্ষণ পর একে একে মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে। কোনো কোনো মহিষ মাটিতে পড়ে যায়, মুখ দিয়ে লালা ঝরতে থাকে এবং দুর্বল হয়ে পড়ে।

 

খবর পেয়ে মহিষের মালিক ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে অসুস্থ মহিষগুলোকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এরই মধ্যে রফিজ মৃধা, সুমন মাঝি ও রুহুল আমিনের একটি করে মোট তিনটি মহিষ মারা যায়। অসুস্থ মহিষগুলোর মধ্যে কয়েকটির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায় সাহেবের বাসিন্দা মহিষ মালিক মোস্তফা ফকির বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর ধরে লালচরে মহিষ পালন করছি। শত শত মহিষ এই চরের ঘাস খেয়ে বড় হয়েছে। এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। শত্রুতার কারণে কেউ চরের ঘাসে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে। আমার ১৮টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এগুলোর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।’

 

মহিষ মালিক রুহুল আমিন বলেন, ‘বিষ দেওয়া ঘাস খেয়ে আমার একটি মহিষ মারা গেছে। অন্য মহিষগুলোও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে চিকিৎসা চলছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

 

বাউফল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কয়েকটি মহিষ মারা যায়। অসুস্থ মহিষগুলোর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত খাবার খাওয়ার কারণেই মহিষগুলোর মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে। মারা যাওয়া মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

 

ঘটনার পর চরের ঘাসে কীভাবে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা নিয়ে মহিষ মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত চরে মহিষ পালন করে জীবিকা নির্বাহ করা খামারিরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ২১:৪৯:৪০ ● ৪৩ বার পঠিত