বৃহস্পতিবার ● ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রতিষ্ঠান রক্ষা ও নিরাপত্তার দাবিতে আগৈলঝাড়ায় ড. জন নীহার বিশ্বাস মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সংবাদ সম্মেলন
হোম » বরিশাল » প্রতিষ্ঠান রক্ষা ও নিরাপত্তার দাবিতে আগৈলঝাড়ায় ড. জন নীহার বিশ্বাস মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সংবাদ সম্মেলন
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ড. জন নীহার বিশ্বাস মেমোরিয়াল ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তি রক্ষা, পরিচালক-কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দখল, ভাঙচুর, লুটপাট ও হয়রানির ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এতে সাবেক কর্মী মঞ্জু বালা ও মাজহারুল ইসলাম নিপুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল মঞ্জু বালা ও মাজহারুল ইসলাম নিপুকে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া ও এর সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাস্টের ব্যাংক হিসাব থেকে সাত লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও বিভিন্ন মালামাল লুটের ঘটনায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ভাঙচুরে প্রায় ৫৬ লাখ টাকা এবং মালামালের ক্ষয়ক্ষতিতে প্রায় ৪২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ আরও অভিযোগ করে, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা এবং বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করা হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, মঞ্জু বালা প্রয়াত ড. জন নীহার বিশ্বাসের স্ত্রী দাবি করে একটি কথিত বিবাহ সনদের ভিত্তিতে ওয়ারিশ হওয়ার আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উদ্যোগে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হলেও যথাযথ প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ওয়ারিশ সনদ দেওয়া হয়নি বলে দাবি ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের।
এ ছাড়া আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ, কর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা, ভাঙচুর ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। এসব ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাস্টের কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ড. জন নীহার বিশ্বাস মেমোরিয়াল ট্রাস্টের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ পরিবার নির্ভরশীল। পাশাপাশি ট্রাস্টের ১৮ জন কর্মী ও তাদের পরিবারও প্রতিষ্ঠানটির আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় ট্রাস্টের সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠান রক্ষা, পরিচালক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাস্ট সদস্য ও শিক্ষিকা লাকি মিত্র, ট্রাস্ট সদস্য কল্লোল বিশ্বাসসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় ট্রাস্ট পরিচালিত কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা পারুল বাড়ৈ, শিক্ষিকা কল্পনা ওঝা, মঞ্জিতা হালদারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:০৯:৩৩ ● ২৫ বার পঠিত
