শনিবার ● ২২ আগস্ট ২০২৬
নেছারাবাদে জমি নিয়ে চাচাতো ভাইদের বিরোধ, এলাকায় উত্তেজনা
হোম » পিরোজপুর » নেছারাবাদে জমি নিয়ে চাচাতো ভাইদের বিরোধ, এলাকায় উত্তেজনা
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদে পৈতৃক সম্পত্তির ভোগদখল ও মালিকানা নিয়ে চাচাতো ভাইদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এক পক্ষের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা ও ভোগদখলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্য পক্ষের দাবি, তাদের পৈতৃক সম্পত্তির জমি ভুলভাবে রেকর্ড করা হয়েছে।
উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের মেসন্ডা গ্রামে এ বিরোধ চলছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে দুই পক্ষের মধ্যে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের বিষয়টি জানা গেছে।
অভিযোগকারী পক্ষের জাহাঙ্গীর কবির ও আলমগীর কবিরের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির বিভিন্ন অংশ তাদের মা-বাবার নামে দলিল ও বিএস রেকর্ডভুক্ত। তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব জমি ভোগদখল করে আসছেন। তবে চাচাতো ভাই আল আমিন ও জিহাদ সম্প্রতি এসব জমির মালিকানা দাবি করে ভোগদখলে বাধা দিচ্ছেন এবং জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তাদের।
জাহাঙ্গীর কবির ও আনোয়ার হোসেনের কেয়ারটেকার জামাল হোসেন বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর ধরে তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি দেখাশোনা করছি। মালিকদের পিতা-মাতার নামে থাকা দলিল ও বিএস রেকর্ডভুক্ত জমিও আমরা দেখাশোনা করে আসছি। সম্প্রতি আল আমিন ও জিহাদ জমির মালিকানা নিয়ে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন।’
জামাল হোসেন আরও অভিযোগ করেন, আল আমিনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কিশোরদের কাছে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির পাশাপাশি জাহাঙ্গীরদের একটি কাচারি ঘর দখল করে সেখানে মাদকের আড্ডা বসানোর অভিযোগও করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কৃষক জুয়েল বলেন, ‘প্রায় ১৩ বছর ধরে জাহাঙ্গীর কবিরের কাছ থেকে নগদ খাজনার ভিত্তিতে জমি নিয়ে চাষাবাদ করছি। সম্প্রতি আল আমিন ও জিহাদ আমাকে সেখানে চাষাবাদে বাধা দেন। একপর্যায়ে আমার ট্রাক্টর ভাঙচুর এবং আমাকে ও চালককে মারধর করে জমি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।’
তবে আল আমিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেসন্ডা গ্রামে তাদেরও বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। তার চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর কবির ও আলমগীর কবির নিজেদের ইচ্ছামতো ওই সম্পত্তির বিএস রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সমাধান হয়নি। পরে তিনি বিষয়টি আদালতে নিয়েছেন বলেও জানান।
সরেজমিনে বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চাষাবাদ চলছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিটি বার্ষিক নগদ খাজনার ভিত্তিতে চাষাবাদের জন্য দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, আলমগীর কবিরের মাধ্যমে কৃষক জুয়েলকে জমিটি চাষাবাদের জন্য দেওয়া হয়েছে।
জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘বিরোধপূর্ণ জমি আমাদের মায়ের নামে এবং বিএস রেকর্ডভুক্ত। আমরা দীর্ঘদিন বাড়িতে না থাকায় জমিটি নগদ খাজনার ভিত্তিতে স্থানীয় কৃষক জুয়েলকে চাষাবাদের জন্য দিয়েছি। আমার চাচাতো ভাইরা জমিটির মালিকানা দাবি করলেও তাদের দাবির পক্ষে বৈধ দলিল দেখাতে পারেনি। তারা বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করছেন এবং জমি ভোগদখলে বাধা দিচ্ছেন।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। ফলে বিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে দুই পক্ষই বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা নিয়ে নিজেদের পক্ষে দলিল ও রেকর্ড থাকার দাবি করছে। এক পক্ষের দাবি, জমি তাদের নামে দলিল ও বিএস রেকর্ডভুক্ত। অন্য পক্ষের দাবি, ওই জমিতে তাদেরও পৈতৃক অংশ রয়েছে এবং ভুলভাবে রেকর্ড হওয়ায় তারা আইনি প্রতিকার চাইছেন।
জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিরোধের স্থায়ী সমাধানে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:৪৩:৩৫ ● ২৭ বার পঠিত
