বুধবার ● ১৯ আগস্ট ২০২৬
এক উপজেলায় দুই নাম, সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মহিপুর-কুয়াকাটা
হোম » লিড নিউজ » এক উপজেলায় দুই নাম, সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মহিপুর-কুয়াকাটা
![]()
নাসির উদ্দিন বিপ্লব
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা ভেঙে নতুন উপজেলা গঠনের দাবির মধ্যে মহিপুরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং কুয়াকাটার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা পৃথক দুটি পত্র তিনি সোমবার (১৭ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন। তবে নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসেনি বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মাদ শহীদ হোসেন চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গত ৭ জুনের পত্রে মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ১৬ জুলাইয়ের পত্রে কুয়াকাটাকে উপজেলা ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাই করে বাস্তবতার নিরিখে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, দুটি পত্রেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও কোনো পত্রে মহিপুর বা কুয়াকাটাকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। কলাপাড়া থেকে নতুন উপজেলা হলে সেটি একটি এলাকাকে কেন্দ্র করেই গঠিত হবে। ফলে প্রশাসনিক ও কারিগরি যাচাই-বাছাই শেষে মহিপুর নাকি কুয়াকাটা- কোন এলাকাকে কেন্দ্র করে নতুন উপজেলা হবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
জেলা প্রশাসকের কাছে আসেনি নির্দেশনা:
কলাপাড়া উপজেলা ভেঙে নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মাদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কলাপাড়া উপজেলায় হাজীপুর নামে নতুন একটি ইউনিয়ন হতে যাচ্ছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের আর কোনো নির্দেশনা-সংবলিত চিঠিপত্র আমার দপ্তরে আসেনি। তবে নতুন উপজেলা প্রসঙ্গে লোকমুখে শুনে আসছি।’
জেলা প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগোলেও নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পৌঁছেনি।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘ইতোমধ্যে কলাপাড়া উপজেলায় সৃষ্ট নতুন ইউনিয়ন হাজীপুরের সীমানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে জেলায় পাঠাব। এরপর নতুন ইউনিয়ন হিসেবে সরকার গেজেট প্রকাশ করবে।’
দুই এলাকায় পৃথক দাবি:
মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণার দাবির পক্ষে স্থানীয়দের যুক্তি, মৎস্যবন্দর, ব্যবসা-বাণিজ্য, জনসংখ্যা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এলাকাটি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালে মহিপুর থানা প্রতিষ্ঠার পর এর প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, কুয়াকাটার দাবির পক্ষে পর্যটন, অর্থনীতি, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক গুরুত্বকে সামনে রাখা হচ্ছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রসৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটাকে ঘিরে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিপুল অংকের বিনিয়োগ রয়েছে। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত কুয়াকাটা পৌরসভা বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করার পর এলাকাটির নগর ও প্রশাসনিক গুরুত্বও বেড়েছে।
কুয়াকাটাকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গণস্বাক্ষর সংগ্রহসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। মহিপুরের পক্ষ থেকেও উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে স্থানীয়ভাবে তৎপরতা চলমান রয়েছে।
এমপির উদ্যোগে দুই দাবিই সরকারের কাছে:
সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন গত ৫ জুন মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মহিপুরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
অন্যদিকে, কুয়াকাটাকে উপজেলা ঘোষণার বিষয়েও তাঁর পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ জুলাইয়ের পত্রে কুয়াকাটার সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী বলছেন মহিপুর ও কুয়াকাটার নেতারা:
মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাজাহান পারভেজ বলেন, ‘নতুন ইউনিয়নের গেজেট প্রকাশ হলে আমরা আমাদের দাবি নিয়ে জোরালভাবে অগ্রসর হব। সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পত্রের যে নির্দেশনা এসেছে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসক হয়তো একটি প্রতিবেদন দেবেন। সে অনুযায়ী হয়তো সরকার পদক্ষেপ নেবে।’
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, সরকার কুয়াকাটার সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় কুয়াকাটাকেই উপজেলায় উন্নীত করার ঘোষণা দেবে।’
নিকার বৈঠকের দিকেও নজর:
এর আগে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম বৈঠকে দেশের তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি নতুন থানা অনুমোদন দেওয়া হলেও মহিপুর বা কুয়াকাটাকে উপজেলা ঘোষণার কোনো প্রস্তাব সেখানে স্থান পায়নি।
এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পৃথক দুটি নির্দেশনার পর নতুন করে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না পৌঁছানো এবং হাজীপুর ইউনিয়নের গেজেট প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বিষয়টি এখনো প্রাথমিক প্রশাসনিক পর্যায়েই রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৩:৫৫ ● ২৩ বার পঠিত
