বুধবার ● ১৯ আগস্ট ২০২৬

বেনাপোল স্থলবন্দরে ৭৯ পদ শূন্য, জনবল সংকটে ব্যাহত কার্যক্রম

হোম » খুলনা » বেনাপোল স্থলবন্দরে ৭৯ পদ শূন্য, জনবল সংকটে ব্যাহত কার্যক্রম
বুধবার ● ১৯ আগস্ট ২০২৬


 

বেনাপোল স্থলবন্দরে ৭৯ পদ শূন্য, জনবল সংকটে ব্যাহত কার্যক্রম

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেনাপোল (যশোর)

 

বেনাপোল স্থলবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে ৭৯টি পদ শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এসব পদে জনবল নিয়োগে এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট থেকে বেনাপোল বন্দরের পরিচালকের পদটি শূন্য রয়েছে। ওই পদে এখনো নতুন কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব নেননি। ফলে বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দেশের সর্ববৃহৎ এই স্থলবন্দরের শীর্ষ পদে দ্রুত কর্মকর্তা নিয়োগ না হলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা আরও বাড়তে পারে।

 

জনবল সংকটের চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট উপ-পরিচালক (ডিডি) পদে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল বন্দরে উপ-পরিচালকের চারটি পদ রয়েছে। এর বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে মাত্র একজন উপ-পরিচালক দায়িত্ব পালন করছেন।

 

বন্দরের বিভিন্ন পদে কর্মচারী সংকটের চিত্রও একই। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গুদাম ও ইয়ার্ড পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন কর্মচারীর জন্য মোট ২১৬টি পদ রয়েছে। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৪১ জন। অর্থাৎ এসব পদে ৭৫ জন কর্মচারীর ঘাটতি রয়েছে।

 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেনাপোল বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে আমদানিকারকদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে বাড়বে বন্দরের সক্ষমতা। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই পণ্য খালাস ও পরিবহনে কাক্সিক্ষত গতি পাওয়া যাচ্ছে না।

 

বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নতুন জনবল নিয়োগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তাদের সঠিক পদায়নও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ কোনো স্থানে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কর্মকর্তা থাকলে এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মকর্তা সংকট থাকলে সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারে না।

 

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘বেনাপোল বন্দরে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় আমদানিকৃত পণ্য সময়মতো লোড-আনলোড করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এক দিনের কাজ কখনো দুই দিন পর শেষ করতে হচ্ছে। দেশের এই সর্ববৃহৎ বন্দরের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় একটি অংশ সরাসরি যুক্ত। তাই বন্দরের কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী ধীরগতি তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু বন্দর এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, দেশের বিভিন্ন শিল্প ও বাজারেও পড়তে পারে।’

 

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের (বিএলপিএ) চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান জানান, বেনাপোল স্থলবন্দরের জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত জনবল নিয়োগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৫৬:৫০ ● ৩১ বার পঠিত