মঙ্গলবার ● ১৮ আগস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীর গলার কাঁটা ঝুঁকিপূর্ণ চৌরাস্তার ফুটওভার ব্রিজ

হোম » পটুয়াখালী » পটুয়াখালীর গলার কাঁটা ঝুঁকিপূর্ণ চৌরাস্তার ফুটওভার ব্রিজ
মঙ্গলবার ● ১৮ আগস্ট ২০২৬


 

পটুয়াখালীর গলার কাঁটা ঝুঁকিপূর্ণ চৌরাস্তার ফুটওভার ব্রিজ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

 

পটুয়াখালী শহরের ব্যস্ততম চৌরাস্তার ফুটওভার ব্রিজটি নিরাপদ সড়ক পারাপারের বদলে এখন জনদুর্ভোগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রায় ১১ বছর আগে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নির্মিত ব্রিজটি দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবৈধ দখল, ময়লা-আবর্জনা, অপর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তাহীনতা। ফলে অধিকাংশ পথচারী ব্রিজ ব্যবহার না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়ক পারাপার করছেন।

 

জানা যায়, ২০১৫ সালে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালী শহরের কেন্দ্রস্থল চৌরাস্তা এলাকায় ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। ব্যস্ত সড়কে পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমানোই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু নির্মাণের পর দীর্ঘ সময়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে গেছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের উভয় পাশের সিঁড়ির মুখেই বসেছে বিভিন্ন ধরনের দোকান। এতে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামায় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। সিঁড়ির ধাপ ও ব্রিজের বিভিন্ন স্থানে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। কোথাও প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য পড়ে রয়েছে, আবার কোথাও দুর্গন্ধে পরিবেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় অনেক পথচারী ব্রিজ ব্যবহার না করে সরাসরি ব্যস্ত সড়ক পার হচ্ছেন। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা।

 

ব্রিজটির কাঠামোগত অবস্থাও উদ্বেগজনক। বিভিন্ন স্থানে পাটাতনে মরিচা ধরে ফুটো তৈরি হয়েছে। রেলিংয়ের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও লোহার ধারালো অংশ বাইরে বেরিয়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাতাসে ব্রিজটি দুলতে থাকে। কয়েক দিন আগে ব্রিজের একটি লোহার অংশ ভেঙে নিচে চলন্ত একটি বাসের ওপর পড়ে। এতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় ব্রিজটি আরও অনিরাপদ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর ব্রিজে মাদকাসক্ত ও ছিনতাইকারীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। ফলে নিরাপত্তার শঙ্কায় অনেক পথচারী, বিশেষ করে নারী ও বয়স্করা রাতে ব্রিজ ব্যবহার এড়িয়ে চলেন।

 

মো. শামীম নামে এক পথচারী বলেন, ‘নিরাপদে রাস্তা পার হওয়ার জন্যই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন এটি ব্যবহার করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সিঁড়ির মুখে দোকানপাট, ময়লা-আবর্জনা ও ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে মানুষ ব্রিজ ব্যবহার করতে চান না। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হচ্ছে।’

 

আরেক পথচারী হুমায়ুন বলেন, ‘রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। নিয়মিত নজরদারিও দেখা যায় না। এ কারণে সন্ধ্যার পর ব্রিজ ব্যবহার করতে ভয় পান অনেকেই। নিয়মিত টহল, পর্যাপ্ত আলো ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হলে ব্রিজটি আবার নিরাপদভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।’

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ব্রিজের বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ এটি ব্যবহারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। দ্রুত সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা হলে পথচারীরা আবার ব্রিজটি ব্যবহার করবেন। এতে ব্যস্ত সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।

 

পটুয়াখালী পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছি। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে পৌরসভা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

 

নগরবাসীর দাবি, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোকে অবহেলায় নষ্ট হতে দেওয়া উচিত নয়। দ্রুত সংস্কার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং অবৈধ দখলমুক্ত করা গেলে ব্রিজটি আবারও নিরাপদ পারাপারের মাধ্যম হয়ে উঠবে। এতে একদিকে জনদুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে ব্যস্ত চৌরাস্তা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:২০:২০ ● ২৭ বার পঠিত