রবিবার ● ১৬ আগস্ট ২০২৬
তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে রিট, বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের
হোম » পটুয়াখালী » তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে রিট, বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর বাউফলের ভাঙনকবলিত তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং বালুমহাল ইজারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে জনস্বার্থমূলক রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। রিটের শুনানি শেষে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রবিবার (১৬ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি আহমদ সোহেল ও বিচারপতি ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে রিটের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত এ নির্দেশ দেন।
রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।
রিট আবেদনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মাদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু ও বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী মো. মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, কয়েক যুগ ধরে তেঁতুলিয়া নদীতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তীব্র ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুমহাল ইজারা স্থগিত করার পরও বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি রিট পিটিশন দায়ের করেন। আদালত শুনানি শেষে রুল জারি করে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, চলতি বছর তেঁতুলিয়া নদীকে বুড়াগৌরঙ্গ নদী দেখিয়ে বালুমহাল ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। ভাঙনকবলিত তেঁতুলিয়া নদীতে অন্য নদীর নামে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে গত ১০ জুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলুর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বালুমহালের ইজারা স্থগিত করা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির ওরফে নাইয়া কবির ইজারা স্থগিত থাকার পরও তেঁতুলিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখেন। এতে নদীর তীরবর্তী নাজিরপুর ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে ভাঙন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ বিষয়ে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসন ও সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, প্রভাবশালী বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ইজারা স্থগিত থাকার পরও বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে হুমায়ুন কবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তেঁতুলিয়া নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। বালু কাটার কারণে নদীভাঙন বাড়েনি। তাঁর বিরুদ্ধে জামায়াতের লোকজন ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, ভাঙনকবলিত হওয়ায় তেঁতুলিয়া নদীর বালুমহাল ইজারা স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:১০:৪৭ ● ২২ বার পঠিত
