রবিবার ● ১৬ আগস্ট ২০২৬
আমতলীতে স্কুলছাত্র ইমন হত্যা: ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, সড়ক অবরোধ
হোম » বরগুনা » আমতলীতে স্কুলছাত্র ইমন হত্যা: ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, সড়ক অবরোধ
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনায় স্কুলছাত্র জাবেদ ইমন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আমতলীতে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। রবিবার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আমতলী একে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পয়েন্টে এ অবরোধ চলে। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ইমন হত্যার ২০ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে।
নিহত ইমনের সহপাঠী হিরা, মেহেদী, জিসান, মিশকাত ও রাকিবসহ শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের সঙ্গে স্থানীয় সহস্রাধিক নারী-পুরুষও সড়কে অবস্থান নেন।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, আসামি অজ্ঞাত থাকায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। তদন্ত কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো। তিনি বলেন, মানুষের ভোগান্তি লাঘবে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন।
নিখোঁজের তিন দিন পর মরদেহ উদ্ধার
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মধ্য আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের আউয়াল প্যাদার ছেলে জাবেদ ইমন আমতলী একে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ২৬ জুলাই বিকেলে সে আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারে যায়। পরিবারের দাবি, বাজারের ব্যবসায়ী ইমরান তালুকদার হৃদয় তাকে ডেকে নিজের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে ইমনের বন্ধু সাজিদকে রেখে ইমরান তাকে অন্যত্র নিয়ে যান। এরপর থেকে ইমনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন ২৭ জুলাই আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বহিষ্কৃত ছাত্রদল সদস্য সচিব সগির বিশ্বাস ইমনকে খুঁজে দেওয়ার কথা বলে তার বাবা আউয়াল প্যাদার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে পরিবারের অভিযোগ। ইমন বালিয়াতলীতে আছে বলেও তিনি জানান বলে দাবি পরিবারের। আউয়াল প্যাদার অভিযোগ, এরপর তিন দিন বিভিন্নভাবে তার পরিবারকে হয়রানি করা হয়।
২৯ জুলাই সন্ধ্যায় মধ্য আড়পাঙ্গাশিয়া এলাকায় পায়রা নদীর পাড় থেকে বস্তাবন্দি একটি মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী থানা পুলিশ। মরদেহ পচে যাওয়ায় তখন পরিবারের সদস্যরা সেটি শনাক্ত করতে পারেননি। ৩০ জুলাই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিনই বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি বরগুনায় দাফন করা হয়।
পরদিন ৩১ জুলাই পুলিশ ইমনের বাবা আউয়াল প্যাদাকে থানায় ডেকে মরদেহের পরিহিত পোশাক দেখায়। পোশাক দেখে তিনি সেটি তার ছেলে জাবেদ ইমনের বলে শনাক্ত করেন। পরে ৫ আগস্ট তিনি আমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
তদন্তে নৌ-পুলিশ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইমন হত্যার রহস্য উদঘাটনে নিদ্রা সকিনা নৌ-পুলিশের পরিদর্শক সাগর ভন্দ্রকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইমনের মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর সগির বিশ্বাস ও ব্যবসায়ী ইমরান তালুকদার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে ৯ আগস্ট ইমন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে একই সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রবিবারের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, ইমনের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫৬:২৮ ● ২৩ বার পঠিত
