বুধবার ● ১২ আগস্ট ২০২৬

১২০ শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে উপস্থিত মাত্র ৭, এসএসসিতে ১৯ জনে পাস ২

হোম » লিড নিউজ » ১২০ শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে উপস্থিত মাত্র ৭, এসএসসিতে ১৯ জনে পাস ২
বুধবার ● ১২ আগস্ট ২০২৬


 

১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৭ জন, অনুপস্থিতির জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণকে দায়ী করলেন শিক্ষক

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী ১২০ জন। শিক্ষক ১১ ও কর্মচারী রয়েছেন দুজন। তবে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে পাওয়া গেছে মাত্র সাত শিক্ষার্থীকে।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপস্থিত সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে একজন, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কেউ ছিল না। নবম ও দশম শ্রেণিতে তিনজন করে শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। শিক্ষার্থীদের এমন নগণ্য উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক এর পেছনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রভাব, স্বল্প সন্তান পরিবার ও এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশকে দায়ী করেছেন।

 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পঙ্কজ কুমার মণ্ডল বলেন, ‘শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া, স্বল্প সন্তান পরিবার এবং এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশ দায়ী।’

 

এদিকে বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফলও হতাশাজনক। ২০২৬ সালে বিদ্যালয় থেকে ১১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। এর আগে ২০২৫ সালে আট পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল একজন। অর্থাৎ দুই বছরে ১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র দুজন।

 

গত ১০ আগস্ট বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নেছারাবাদসহ পিরোজপুরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নথিতে ১২০ শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত পাঠদানে অংশ নিচ্ছে হাতে গোনা কয়েকজন।

 

এতে প্রশ্ন উঠেছে, কাগজে-কলমে থাকা বাকি ১১৩ শিক্ষার্থী কোথায়? নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে সাত-আটজনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকলে বিদ্যালয়ের নথিতে ১২০ শিক্ষার্থীর হিসাব কীভাবে রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ওয়াশরুমের সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

 

তিনি জানান, এসএসসি পরীক্ষায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন পরীক্ষার্থী দেখাতে হয়। এ কারণে পাশের সপ্তগ্রাম সম্মিলনী বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, ‘বিদ্যালয় থেকে ১১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজন পাস করেছে। অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টিও আমার জানা আছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হবে।’

 

শিক্ষার্থী সংকট, উপস্থিতির সঙ্গে নথিভুক্ত শিক্ষার্থীর বড় ব্যবধান এবং অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টি এখন শিক্ষা প্রশাসনের নজরে এসেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে বিদ্যালয়ের প্রকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা ও শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব চিত্র স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫৯:২৯ ● ৯ বার পঠিত