সোমবার ● ১০ আগস্ট ২০২৬
লোডশেডিংয়ে তীব্র বরফ সংকট, সাগরে যেতে পারছেন না শত শত জেলে
হোম » জেলে-মৎস্য » লোডশেডিংয়ে তীব্র বরফ সংকট, সাগরে যেতে পারছেন না শত শত জেলে
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরে ইলিশ আহরণে ব্যস্ত থাকার কথা জেলেদের। তবে টানা লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র বরফ সংকট দেখা দেওয়ায় মাছ ধরার সরঞ্জাম ও বাজার নিয়ে প্রস্তুত থাকার পরও সাগরে যেতে পারছেন না তারা। বাড়তি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় বরফ মিলছে না। ১৫০ টাকার এক ক্যান বরফ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। ফলে বরফের অপেক্ষায় ঘাটে নোঙর করে আছে শত শত মাছধরা ট্রলার।
রবিবার (৯ আগস্ট) আলীপুর ও মহিপুর মৎস্যবন্দর এলাকার বিভিন্ন বরফকল ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অধিকাংশ বরফকলের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ট্রলার চার-পাঁচ দিন ধরে বরফের জন্য ঘাটে অপেক্ষা করছে। এতে জেলে ও ট্রলার মালিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।
আলীপুর ও মহিপুর মৎস্যবন্দর এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৬টি বরফকল রয়েছে। এসব কলের কোনোটি প্রতিদিন ২০-২৫ ক্যান, আবার কোনোটি ২০০ ক্যান পর্যন্ত বরফ উৎপাদন করে। কিন্তু গত ১০ দিন ধরে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং চলায় বরফ উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ফলে ইলিশের ভরা মৌসুমেও পর্যাপ্ত বরফ না থাকায় সাগরে যেতে পারছে না শত শত মাছধরা ট্রলার।
বরফের জন্য চার দিন ধরে ঘাটে অপেক্ষায় থাকা এফবি নিশাত ট্রলারের জেলে শুক্কুর বলেন, ‘মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য আমাদের ২০০ থেকে ২২০ ক্যান বরফ প্রয়োজন। অথচ এক ক্যান বরফও পাচ্ছি না। বরফ ছাড়া সাগরে গিয়ে মাছ ধরা সম্ভব নয়। বরফই আমাদের মাছের প্রাণ। বরফ না থাকায় আমাদের জীবিকাই এখন বন্ধ হওয়ার পথে।’
ঘাটে নোঙর করা এফবি তামান্না, এফবি মা মনি, এফবি কামালসহ শত শত ট্রলারেরও একই অবস্থা। ট্রলারে আহরিত মাছ সংরক্ষণ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের জন্য স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত বরফ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়ীরা খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বাড়তি দামে বরফ সংগ্রহ করছেন।
খান ফিশের আড়তদার রহিম খান বলেন, ‘১৫০ টাকার বরফ ৩০০ টাকা দিয়েও কিনতে হচ্ছে। তাও পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে না। সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থেকে নামমাত্র বরফ পাওয়া যাচ্ছে। আলীপুর-মহিপুরে ভয়াবহ সংকট চলছে। তাই বাধ্য হয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রাক ভাড়া করে বরফ আনতে হচ্ছে। এতে খরচ অনেক বেড়েছে।’
আলীপুর-মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মো. ফজলু গাজী বলেন, ‘হঠাৎ তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বেশি দামে বরফ বিক্রি হচ্ছে। এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে বরফকলগুলো একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
বরফকল মালিকরা জানান, প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বরফ উৎপাদন অনেক কমে গেছে। একদিকে ইলিশের মৌসুমে বরফের চাহিদা বেড়েছে, অন্যদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে বরফের দাম।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎদার সমিতির নেতা গাজী মো. মজনু বলেন, ‘বরফ উৎপাদনের জন্য একটানা বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এভাবে বারবার লোডশেডিং হলে বরফ উৎপাদন করা সম্ভব নয়। মৎস্যবন্দর ও জেলেদের টিকিয়ে রাখতে আলীপুর-মহিপুরসহ কুয়াকাটা এলাকায় বিশেষভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এ ব্যবসা ধ্বংসের মুখে পড়বে।’
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আবুল কাশেম বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে লোডশেডিং চলছে। জেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ১৩০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে ৪৫ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে। চাহিদার মাত্র ৫২ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। বাকি ৪৮ শতাংশ ঘাটতির কারণে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি সংকট কেটে গেলে এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু হলে লোডশেডিংয়ের সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করছি।’
বাংলাদেশ সময়: ১:০৫:১৫ ● ২৩ বার পঠিত
